মাম্পি রায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এসআইআর নিয়ে সংসদ ভবন থেকে রাজনীতির ময়দান যখন উত্তপ্ত, তখন বিরোধিতাকে তুরি মেরে এসআইআর হয়েই চলেছে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। গোটা দেশেই ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR হতে চলেছে তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার বিহারের পর রাজধানী দিল্লিতে সেই প্রক্রিয়া বকলমে শুরু হয়ে গেল। ভোটারদের ২০০২ সালের তালিকায় নাম রয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার আর্জি জানালেন দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিবৃতিতে অনুযায়ী, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার পর্ব চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ভোটারদের এবং অভিভাবকদের নাম রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে। দিল্লির সিইওর ওয়েবসাইটে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কপি আপলোডও করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কারও নাম না থাকলে তাঁদের বৈধ নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। যাতে ভেরিফিকেশনের সময় সমস্যায় পড়তে না হয়। যার থেকে স্পষ্ট বকলমে দিল্লিতেও এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।
এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিমকোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন। বিহারের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য ১১টি নথির কথা প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে কমিশনের নির্দেশে প্রামাণ্য নথি হিসেবে আধার কার্ডকেও যুক্ত করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এবং কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, আধার শুধুমাত্র পরিচয়পত্র, নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়।
এসআইআরের পর বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। ওই ৬৫ লক্ষের মধ্যে বহু বৈধ ভোটার ছিলেন বলে একাধিকবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। প্রথমে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়। সবমিলিয়ে এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা, বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। সবমিলিয়ে একের পর এক রাজ্যে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, ঠিক যেমনটা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল। বিরোধীরা কি আদৌ কিছু করতে পারবে ? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।