পহেলগাঁওতে বেছে বেছে হিন্দু নিধনের ঘটনায় পাকিস্তানের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিল ভারত। ৭মে রাত ১টায় পাকিস্তানে ঢুকে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের বুকে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে ধ্বংস করা হয়েছিল। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। রাত ১টা বেজে ৫ মিনিটে অপারেশন সিঁদুর অভিযান শুরু হয়। মুজফ্ফরাবাদ, কোটলি, বহওয়ালপুর, রাওয়ালকোট, চক্সওয়ারি, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝিলম এবং চকওয়ালে মোট ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে সন্ত্রাসবাদী নিধন অভিযান চলে। মূলত লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

কিন্তু রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে কেন সেই গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন চালানো হল, প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। মধ্যরাতে অন্ধকারে তো ঠিকমতো উপগ্রহ চিত্রও পাওয়া সম্ভব ছিল না? প্রমাণ সংগ্রহ করাটাও কঠিন ছিল? তারপরও এমন সময় কেন বেছে নেওয়া হল?
অবশেষে তার উত্তর প্রকাশ্যে এল। উত্তর দিলেন ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক বা সিডিএস অনিল চৌহ্বান। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাজভবনে অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষতার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সিডিএস অনিল চৌহ্বান জানান, মধ্যরাতে অভিযান চালানো হয়েছে। কারণ প্রথমত, রাতেও আমরা ছবি তুলতে পারব, আমরা সেই ক্ষমতায় আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। দ্বিতীয়ত, সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোটাও অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সেনার। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অভিযান চালালেও তা উপযুক্ত সময় ছিল। তাহলে কেন সকালে অভিযান করা হল না? অনিলের চৌহ্বান জানাচ্ছেন, ভোর ৫টা থেকে ৬টা হল নমাজের সময়। ওই সময়ে অনেক সাধারণ মানুষ জড়ো হন। তাই চিন্তাভাবনা করে ভোরের সময় বাতিল বলে রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অভিযান চালানো হয়। যেহাতু অপারেশন সিঁদুরের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র পাকিস্তান বা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বুকে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। তাই ভোরবেলা অভিযান চালালে সাধারণ মানুষের হতাহতের সম্ভাবনা আরও বাড়ত। সেজন্য ভোরবেলার বদলে মধ্যরাতের সময়টাই বেছে নেওয়া হয়েছে।

সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহ্বান দাবি করেছেন, ২০১৯ সালের বালাকোট বিমান হামলার থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভিন্ন। তিনি জানান, আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী বালাকোট অভিযান করেছিল। তখন ভারতীয় সেনার কাছে স্যাটেলাইট ছবি বা অন্য কোনও প্রমাণ ছিল না। ফলে বালাকোট অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পেরেছেন অনেকে। কিন্তু এখন রাত একটায় অপারেশন সিঁদুর হলেও, প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।