এখন পুজো মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় আর রবিবারই মহালয়া, রবিবার থেকেই শুরু দুর্গোৎসব এমনটা বলাই যায়। রবিবার থেকেই রাস্তায় হবে বাড়তি ভিড়। কিভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ হবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু পুলিশের অন্দরমহলে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পুজো মানেই রাস্তায় বাড়তি ভিড় বাড়তি জ্যাম আর তাকে সামলানোর ক্ষেত্রে প্রতি বছরেই পুলিশকে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিতে হয়। এই বছরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। মহালয়ার দিন থেকেই এবার কলকাতা পুলিশ রাস্তায় নেমে পড়বে পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে। এবার গোটা পুজোর সময়টাতেই মোতায়েন থাকছে অতিরিক্ত বাহিনী। বিশেষ নজর রাখা হবে শহরের যান চলাচলে। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই কলকাতা পুলিশের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পুজোর সময় শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা যাতে স্বাভাবিক থাকে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। এর পাশাপাশি, পিডব্লুডি কেএমসি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক হয়েছে। বিসর্জন নিয়ে পোর্টের সঙ্গেও বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা পুলিশ সবরকম ভাবে প্রস্তুত।
মহালয়ার দিন ভোর ৩টে থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কলকাতার রাস্তায় কোনও পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। তবে, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িগুলিকে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তৃতীয়া থেকে কলকাতার রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কলকাতার রাস্তায় কোনও পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। একই ভাবে চতুর্থী থেকে চতুর্দশীর ভোর পর্যন্তও পণ্যবাহী গাড়ির শহরে ঢোকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
কলকাতা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন থাকবে বাড়তি পুলিশ। পুজোর চারদিন বিভিন্ন রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর পাশাপাশি একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জেলার ক্ষেত্রেও। জেলায় মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার পুলিশ। শুধু পুজোর সময় নয়, অতিরিক্ত নজর দেওয়া হবে জেলায় জেলায় পুজো কার্নিভালগুলিতেও। হেড কোয়ার্টার ও অন্যান্য সব ফোর্সকে তৈরি রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত হোমগার্ড, এনসিসি, স্থানীয় যুবকদের কাজে লাগানো হবে। গোটা রাজ্যে পুজোর সময় ট্রাফিক সচল রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।