সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না জুবিন গর্গ আর নেই। তার মরদেহ যখন আনা হল আসামে গোটা আসাম কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। মানুষের ঢল নেমেছিল শেষ বার তাকে দেখতে। কান্নায় ভেঙে পড়েন সকলেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও তিনি ট্রেন্ডিং। তার গানের রিলস ক্রমাগত ভেসে আসছে সমস্ত জায়গায়। তার স্ত্রী গরিমার অবস্থা ঠিক কেমন এই মুহূর্তে তা বলাই বাহুল্য। ভালো বেসে বিয়ে করেছিলেন তারা সেই ভালোবাসার এমন অকাল সমাপ্তি হবে কে জানত।
অনেকেই হয়ত জানেন না, গরিমার সঙ্গে বিয়েটা প্রায় ভেঙে যেতে বসেছিল জুবিনের। অবসাদেও দীর্ঘদিন ভুগেছেন তিনি কিন্তু তার পরেও তিনি হাল ছাড়েননি। লড়ে গিয়েছেন। শুধু জীবনের যুদ্ধটায় আচমকা হেরে গেলেন।
জ়ুবিনের স্ত্রীর পুরো নাম গরিমা শইকীয়া। এতবড় একজন সেলেব্রিটির স্ত্রী হলেও বরাবর থেকেছেন আড়ালে। কোন তারকাসুলভ আচরণ তিনি করতেন না। মন দিয়ে সংসার সামলাতেন আর প্রাণ দিয়ে জুবিনকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তার পরেও কেন ভেঙে যাচ্ছিল তাদের বিয়ে?
গরিমার জীবন জুড়ে যেমন শুধুই জুবিন ছিলেন জুবিনের ক্ষেত্রে কিন্তু বিষয়টা তেমন ছিল না। তার জীবনে বারবার এসেছে একাধিক সম্পর্ক আর নিজের এই অগণিত প্রেমিকা থাকার কথা নিজের মুখেই স্বীকার করতে পিছপা হননি জুবিন! স্কুল-কলেজে তো বটেই সেখানে তিনি যেন লেডি কিলার রোমিও, এমনকি কাজ শুরুর পরেও তার জীবনে প্রেম এসেছে বার বার। জুবিন যখন তামুলপুরে যখন পড়াশোনা করছেন তখন তার দুই প্রেমিকা। একসঙ্গেই। একজন জুনমণি ও অন্যজন রুনজুন। একবার এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে জুবিন নিজেই বলেছিলেন, দুই প্রেমিকার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই জুনমণি রুনজুন গানটি তৈরি করেছিলেন জুবিন।

অন্যদিকে গরিমা জুবিনের গান শুনে একেবারে মুগ্ধ। জুবিন হয়ে উঠেছেন তার স্বপ্ন পুরুষ। গরিমা পেশায় পোশাকশিল্পী। জুবিনের কন্ঠ গরিমার মন এতটাই কেড়ে নিয়েছিল যে তিনিই নাকি প্রথম জ়ুবিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি গায়ককে। জুবিনের শুরুর দিকের এলবাম অনামিকা ও মায়া বড্ড পছন্দের ছিল গরিমার সেই সব গান শুনেই জুবিনকে ভালোবেসে ফেলেন গরিমা। তখন তিনি মুম্বইয়ে পড়াশোনা করছেন। জুবিনের কাছে তো এরকম চিঠি কত আসত অত পাত্তা কেউ পেত না। সব অনুরাগিণীর চিঠির জবাব তিনি দিতেন না। তবে ভাগ্যদেবতা মনে হয় অন্য কিছু চেয়েছিলেন তাই গরিমার চিঠির উত্তর দিয়েছিলেন জ়ুবিন। গল্পটা শুরু সেখান থেকেই।

সেই সময় গরিমা মুম্বইয়ে ছেড়ে পড়াশোনার মাঝেই বাড়ি ফেরার জন্য উতলা হয়ে উঠেছিলেন, মুম্বাই ভালো লাগছিল না তার। তেমনই একটা সময়ে জ়ুবিনের কাছ থেকে চিঠির উত্তর পান। একদিকে বাড়ি ফেরার জন্য উতলা মন আরেদিকে স্বপ্নের পুরুষ চিঠির উত্তর দিয়েছে এই মানসিক টানাপড়েনের সময়েই গরিমার জীবনে জ়ুবিনের প্রবেশ। শুরু হয় প্রেম। আর পাঁচটা প্রেমের সম্পর্কের মতোই তাঁদের জীবনেও আসে চড়াই-উতরাই। সম্পর্কের স্থিতি আসার পর একদিন গরিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জ়ুবিন। যদিও সম্পর্ক শুরুর পর থেকে গরিমা নিজেই জ়ুবিনের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে মানিয়ে উঠতে পারছিলেন না। এমনকি, এই সম্পর্কের বিপক্ষে ছিলেন গরিমার বাবাও।
শোনা যায়, বাবার অমত এবং জুবিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা এই দুই মিলে সেই সময় সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গরিমা। বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের প্রেম ভাঙার পরে অবসাদে ভুগতেন জ়ুবিন। শোনা যায় তাঁর বেশ কয়েকটি গানে নাকি সেই মানসিক অবস্থার প্রভাবও পড়েছিল। তবে ভাগ্য সহায় হয় ২০০২ সালে। মান-অভিমানের পালা কাটিয়ে বিয়ে সারেন জ়ুবিন ও গরিমা। তারপর দুজনে খুব ভালো ছিলেন কিন্তু জীবন এতটাই অনিশ্চিত কার ভালো থাকা কোথায় শেষ হয়ে যায় কেই বা বলতে পারে!