জলমগ্ন শহর কলকাতা। বন্ধ দোকান পাঠ। জলমগ্ন এলাকায় আটকে পড়া দূর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াল ভারত সেবাশ্রম সংঘ। সংঘের সন্ন্যাসী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খিচুড়ি রান্না করে সেই খাবার পৌঁছে দিলেন জলমগ্ন এলাকার মানুষদের।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- পূর্বাভাস ছিল বৃষ্টি হবে কিন্তু এতটা পরিমাণে হবে তা বোঝা যায়নি। আর রাতভর সেই রেকর্ড বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার বেশিরভাগ এলাকা। রাস্তায় বেরিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে নিত্য যাত্রীদের। ব্যাহত যান চলাচল। বন্ধ দোকানপাট। হাওয়া অফিস জানিয়েছে মঙ্গলবারও দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। এদিকে রাতভর বৃষ্টিতে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই কমবেশি জমা জলে ভোগান্তির শেষ নেই শহরবাসীর। শুধু বড় রাস্তা নয়, শহরের অলিগলিও জলমগ্ন। শহরের একাধিক রাস্তায় বাড়ি ও গাড়ি প্রায় জলের নীচে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর এবার এত বৃষ্টি হয়েছে যে সব রাস্তায় আগে কখনও জল জমেনি, সেই সব রাস্তাও জলের নীচে।

টানা বর্ষণ এবং ভরা কোটালের জেরে গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় গোটা কলকাতা শহর কার্যত জলমগ্ন। রাতভর একটানা বৃষ্টির কারণে কলকাতা শহর জলমগ্ন হয়েছে এবং বহু খাবারের দোকান বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলমগ্ন এলাকার দূর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ালো ভারত সেবাশ্রম সংঘ। বালিগঞ্জের ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান কার্যালয়ও সেই জলের কবলে । আশ্রমের রান্নাঘর থেকে আশ্রম প্রাঙ্গণ সর্বত্র জল থইথই। এই পরিস্থিতেও মানবসেবা থেকে নিজেদের দূরে রাখেননি ভারত সেবা সংঘের সন্ন্যাসী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। জমা জলের মধ্যেই বড় বড় হাঁড়িতে খিচুড়ি রান্না করেন সংঘের সন্ন্যাসী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। তারপর ট্রলি ভ্যানে করে সেই খিচুড়ি নিয়ে তারা পৌঁছে যাচ্ছেন কলকাতার বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকায়। আটকে পড়া ও দুর্গত মানুষদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় সেই ত্রাণের খাবার।

দূর্যোগের কালো মেঘ এখনই কাটছে না। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর আরও একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা আছে। তার জেরে ফের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখের আগেই ২৩ তারিখের বৃষ্টিতেই নাকাল হতে হল শহরবাসীকে। এতবৃষ্টিতে খাবারের দোকানপাঠ বন্ধ থাকায় যেমন সমস্যায় পড়েন নিত্য যাত্রীদের একাংশ। তেমনই রাস্তা জলমগ্ন থাকায় খাদ্যাভাবে পড়েছেন ফুটপাতে বসবাসকারী মানুষেরা। তাই শহরজুড়ে দুর্দিনে ভারত সেবাশ্রম সংঘের এই উদ্যোগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বহু মানুষ।
সংঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ নিজে ত্রাণ কার্য পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, “কোটালের কারণে জল দ্রুত নামছে না। পরিস্থিতি যতদিন স্বাভাবিক না হয়, ততদিন দুর্গত মানুষদের জন্য আমাদের সেবাকার্য অব্যাহত থাকবে।”