এই অতিবৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে লড়বার ক্ষমতা পুরসভার নেই। দরকার না হলে বাড়ি থেকে বেরোবেন না। এমনটাই জানালেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোমবার রাত থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টা যে বেনজির বৃষ্টি হয়েছে, তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কিন্তু দক্ষিণ কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতাতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তার মধ্যে চেতলা অর্থাৎ মেয়রের পাড়াতেই বৃষ্টি হয়েছে ২৬২ মিলিমিটার। এই তথ্যল পুরসভারই দেওয়া।

একপ্রকার ভাসছে ফিরহাদ হাকিমের চেতলা। কন্ট্রোল রুমে লাগাতার গোটা কলকাতার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন ফিরহাদ। শহরের জলমগ্ন পরিস্থিতির কথা মেনে নিয়ে মেয়র জানিয়েছেন তিনিও অপারগ। কারণ, গঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে। নিকাশি খালগুলিতেও জল কানায় কানায় পূর্ণ। এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা পুরসভার নেই।

মঙ্গলবার সকালে পুরসভার কন্ট্রোল রুম থেকে শহরের জলযন্ত্রণার দিকে নজর রাখার সময় ফিরহাদ বলেন ছোটবেলা থেকে কলকাতায় এমন বৃষ্টি তিনি দেখেননি। খবরের কাগজে পড়েছেন উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে হয়নি বলে জানাচ্ছেন ফিরহাকদ। জলমগ্ন কলকাতায় ইতিমধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কমপক্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরবাসীকে বাড়ি থেকে না বেরোনোর পরামর্শই দেন মেয়র। তিনি আরও বলেন, কলকাতার রাস্তার জল নামানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুধু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে রাত ১০ টা বাজবে। দুর্ঘটনা এড়াতে আমজনতাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এতক্ষণ কেন লাগবে সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন “পুরসভা পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় ২০ মিমি জল নামানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু এবার ৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এত পরিমাণ জল যখন খাল দিয়ে সমুদ্রে পৌঁছবে, তখনই ধীরে ধীরে জল নামবে। এর বাইরে কিছু করার উপায় নেই।যদি আর নতুন করে বৃষ্টি না হয়, তবে রাতের মধ্যে জল নেমে যাবে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনও লাভ নেই। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়বার ক্ষমতা পুরসভার নেই”।