ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: রাজ্যজুড়ে বিজয়া সম্মিলনী শুরু করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের প্রতিটি ব্লক, ওয়ার্ড, অঞ্চলে এই বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হবে। ৫ তারিখ থেকে শুরু হয়ে যাবে এই বিজয়া সম্মিলনী। মোট ৫০ জন বক্তাকে নির্বাচন করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বক্তব্য রাখবেন তাঁরা।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এই বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে এই বিজয়া সম্মিলনীর মধ্যে দিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ করা যাবে। তৃণমূল ঠিক কোন কোন জায়গায় কতটা দুর্বল, এই বিজয়া সম্মিলনীর মাধ্যমেই বুঝতে পারবেন দলের উচ্চপদস্থ নেতৃত্বরা। এর মধ্যদিয়ে দলের সমস্ত নেতৃত্বের মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় থাকবে। প্রবীণ নেতৃত্বদের এই মঞ্চে এনে তাঁদেরকে সম্মান প্রদান করাও হবে।

নির্বাচনের আগে কার্যত অ্যাসিড টেস্ট করে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয় এই বিজয়া সম্মিলনীর মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কীভাবে মানুষজন উপকৃত হচ্ছে, তা আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে বাংলার বকেয়া কেন্দ্র সরকার দিচ্ছে না। ১০০ দিনের কর্মীদের বকেয়া, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের অপমান, হেনস্থা করা হচ্ছে সেই সমস্ত কথাও উঠবে এই মঞ্চ থেকে। তৃণমূলের বিরূদ্ধে যে সমস্ত কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে তা সাধারণ মানুষের জানার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন দলের উচ্চ পদস্থ নেতৃত্বরা। যে সমস্ত জায়গা বিরোধী শিবিরের শক্ত ঘাঁটি সেখানে বেশি জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সেখানকার মানুষদের আরও বেশি করে বোঝাতে হবে বিজেপি বাংলার বকেয়া দিচ্ছে না, বাংলার মানুষজনকে বাংলায় কথা বলার জন্য অপমানের শিকার হতে হয়েছে।

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জনসংযোগের মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে যেতে চাইছে তৃণমূল। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির একটি টার্গেট ২১-এর মঞ্চ থেকেই বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কথা মতোই আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজয়া সম্মিলনীর মধ্য দিয়েই জনসংযোগে নেমে পড়ছে ঘাসফুল শিবির।