বিহার ভোটের আগে অস্বস্তিতে লালু

আইআরসিটিসি কেলেঙ্কারি মামলায় চার্জ গঠন দিল্লির বিশেষ আদালতের। লালু প্রসাদ, রাবরি দেবী এবং তেজস্বী যাদব সহ ১৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে আর বেশি দিন বাকি নেই। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিপাকে পড়ল আরজেডি। বিহারে আইআরসিটিসি মামলায় ধাক্কা খেলেন আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব। চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে লালুর বিরুদ্ধে। শুধু লালু একা নয়, লালুর ছেলে তেজস্বী যাদব ও তাঁর স্ত্রী রাবরি দেবীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট গঠন করা হয়েছে।

আইআরসিটিসি কেলেঙ্কারি মামলায় লালু প্রসাদ, রাবরি দেবী এবং তেজস্বী যাদব সহ ১৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ সিবিআই বিচারক বিশাল গোগানে। লালুর বিরুদ্ধে ৪২০ ধারা, ১২০বি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৩(২) এবং ১৩(১)(ডি) ধারায় অভিযোগ গঠন করেছে।

সোমবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারপতি বিশাল গোগানে এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জানিয়েছেন, লালু সহ তার পুত্র তেজস্বী যাদব ও তার স্ত্রী রাবরি দেবী বিভিন্ন দুর্নীতিতে যুক্ত। কিন্তু আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন লালু পরিবার। পরিবারের তিনজনই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। রাবরি দেবী দাবি করেছেন যে, মামলাটি ভুয়ো। তিনি এও বলেছেন আদালত তাঁর এবং যাদব পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মিথ্যে চার্জশিট গঠন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রী ছিলেন লালু প্রসাদ যাদব। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, সেই সময় আইআরসিটিসি-র হোটেল গুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে চুক্তি করা হয়েছিল, সেই চুক্তিতে দুর্নীতি করেছেন লালু। এছাড়াও চুক্তি কমানোর নাম করে বহুমূল্যের তিন একর জমি একটি বেনামী সংস্থার কাছ থেকে নিয়েছেন লালু। ২০০৯ সালের পর ২০১৭ সালে দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর পর সিবিআই লালু এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। এছাড়াও সিবিআই জানায় যে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার জন্য উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু লালুর দাবি, তিনি কোন দুর্নীতি করেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা কাজ করার তিনি সেটাই করেছেন।

একদিকে বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। তারই পাশাপাশি ভোটের মুখে আরজেডি শিবিরে ভাবুন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন লালুর দলের একাধিক বিধায়করা। তার মধ্যেই চার্জ গঠন। কীভাবে নির্বাচনে এগোবেন লালু?  এখন সেই দিকেই নজর।