সারদা মামলায় স্বস্তিতে রাজীব কুমার

সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেল সিবিআইয়ের মামলা। সারদা চিটফান্ড মামলায় জামিন পেলেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: ৬ বছর পর স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সারদা চিটফান্ড মামলায় তাঁর আগাম জামিনের বিরুদ্ধে সিবিআই-এর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর এই মামলার নোটিস ইস্যু করা হয়েছিল।  কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশও আসেনি। সেই কারণেই মামলাটি এদিন ডিসপোজ অফ করে দেয় প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ।

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ— “ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। তাই মামলাটিকে ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে নেই। সিবিআই  তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের বিরুদ্ধে। তাই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাটি পৃথকভাবে শোনা হবে।“

সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি ফের অভিযোগ তোলেন, “রাজীব কুমারকে রক্ষা করতে রাজ্যের প্রশাসন, এমনকি মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন।“ তবে প্রধান বিচারপতি তাঁর সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চাননি।  বরং কিছুটা বিরক্তিপ্রকাশ করেন।

রাজীব কুমারের হয়ে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেব ও অভিষেক মনু সিংভি। তাঁদের দাবি, আদালত অবমাননার অভিযোগেও কোনও ভিত্তি নেই।

সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় অসহযোগিতা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক অভিযোগে সিবিআইয়ের আতসকাচের তলায় ছিলেন রাজীব কুমার।

সারদা মামলায় তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগে রাজীব কুমারকে জেরা শুরু করেছিল সিবিআই। সেইসময় তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন। সিবিআই সেই জামিনকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিল।

২০১৯ সালে তাঁকে শিলংয়ের সিবিআই দফতরে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেও তিনি প্রয়োজনীয় নথি পেশ করেননি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তদন্তকারীরা। পরে বেশ কয়েকবার হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন রাজীব কুমার। তাঁকে গ্রেফতার করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। পাল্টা জামিনের আবেদন জানান রাজীব কুমার।

কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে অনুরোধ করেছিলেন, এই মামলার সঙ্গে সিবিআই তদন্তে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছিল, সেই আদালত অবমাননার মামলার শুনানিও একসঙ্গে হোক। ওই মামলাও ছ’বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এদিন সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। আদালত অবমাননার মামলাটিও ৮ সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।