পুরসভার বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ!

১৩ শতক জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ। অভিযুক্ত পুরসভা। এফআইআরের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটি

 ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: আর কোনও অনুরোধ বা সতর্কতা নয়।  চিটফান্ডে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বেআইনি দখলদারির অভিযোগে এবার এক পুরসভার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দিল রোজভ্যালির আমানতকারীদের স্বার্থে হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটি। মুর্শিদাবাদে জঙ্গিপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে রঘুনাথগঞ্জ থানাকে এখনই এফআইআর করতে হবে, এই বলে চিঠি দিল হাইকোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটি। কারণ এর আগে ওই কমিটির তরফে পুরসভাকে চিঠি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনিভাবে দখল করা জমির নির্মাণ ভেঙে ফেলতে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরে প্রায় ৩ সপ্তাহ কেটে গেলেও পুরসভা তাতে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। তাই বৃহস্পতিবার শেঠ কমিটির নোডাল অফিসার জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার ও রঘুনাথগঞ্জ থানাকে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেই এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটির চিঠিতে বলা হয়েছে,  হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ওই বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি এখন তাদের হেফাজতে রয়েছে। সেখানে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবরদখল করার এক্তিয়ার নেই। তারপরেও জঙ্গিপুর পৌরসভা সেই জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। এর আগে ওই পুরসভাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা জানানোর জন্য পৌরসভাকে সতর্ক করেছিল কমিটি। কিন্তু তারপরেও পুরসভার তরফে কোনোভাবেই কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। এই অবস্থায় পুলিশকে কমিটির নির্দেশ,  এই চিঠিকেই এফআইআর হিসেবে ধরে নিয়ে পুরসভার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।

জঙ্গিপুরের বাসুদেবপুর মৌজায় বহু বছর ধরে প্রায় ১৩ শতক জমি ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে। ওই জমি রোজভ্যালি চিটফান্ডের। হাইকোর্টের নির্দেশে সেই জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমন জমিতে হঠাৎ জঙ্গিপুর পুরসভা জলের ট্যাঙ্ক সহ আরও নির্মাণকাজ চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। নাগরিকদের বক্তব্য, এমন বিতর্কিত জমিতে কোনও প্রোমোটার নয়, বরং একটি পুরসভা জমি বেআইনিভাবে দখল করছে। তাদের আইন আদালতে কোনও ভয় থাকলে এটা করা সম্ভব নয়। জানাচ্ছেন নাগরিকরা।

 ওই জমির বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে পুরসভা থেকে জেলাশাসক হয়ে নবান্নের কর্তাদের কাছে প্রথম আইনি নোটিস পাঠান ওই সংস্থার আমানতকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস। রোজভ্যালির আমানতকারীদের তরফে তিনি নোটিস পাঠিয়ে পৌরসভাকে সতর্ক করে বলেন,  “এখনই ওই বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করা হোক। কারণ কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত প্রায় এক দশক ধরে ওই জমি সহ চিটফান্ডের টাকায় কেনা বেআইনি সম্পত্তি হাইকোর্ট নিযুক্ত কমিটির হেফাজতে আছে।“

রোজভ্যালি কমিটির নতুন চিঠি প্রসঙ্গে অরিন্দমবাবু বলেন, “পুরসভার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটা খুব লজ্জাজনক যে, বাজেয়াপ্ত করা জমি তারা দখল করে কোনও নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। অথচ তাদের সতর্ক করার পরেও তারা পিছু হটছে না। এটা একটা ঔদ্ধত্য। আইনের চোখে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে। তাই কমিটি এবার চিঠি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে বাধ্য হয়েছে।“ তিনি আরো বলেন, “এই চিঠি অন্য এমন বিতর্কিত জমি দখলদারদের ক্ষেত্রেও একটা সতর্কতা। কারণ গত এক দশকে বহু চিটফান্ডের বহু সম্পত্তি এইভাবে কার্যত গায়ের জোরে দখল করা হয়েছে বলে আমাদের কাছেও খবর রয়েছে।“