সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছেই পাখির চোখ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, তবে এগিয়ে যে তৃণমূলই তা নিয়ে সন্দেহ নেই। ছাব্বিশের ভোটের দামামা বাজানোর লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর মাসেই শহিদ মিনারে সভা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ উৎসবের মরশুম মিটলেই ছাব্বিশের নির্বাচনের দামামা বাজাতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল। এখনও অবধি যেমনটা জানা যাচ্ছে আগামী নভেম্বরে সম্ভবত কলকাতার শহিদ মিনারেই সমাবেশ করতে চলেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের লড়াই, প্রচার শুরু করে দেবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ছাব্বিশের ভোটের মূল ইস্যু হতে চলেছে এসআইআর, তা আগেই স্পষ্ট করেছে তৃণমূল। থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নভেম্বরের সভায় এই এসআইআর নিয়ে লড়াইয়ের মূল সুর বেঁধে দিতে পারেন মমতা-অভিষেক। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিজয়া সম্মিলনীতে মিলিত হয়েছিলেন অভিষেক। সেখানেই এসআইআর প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক। এক জনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই দাবিতে কমিশনের উপর ‘চাপ’ রাখতে পথেও নামছে তৃণমূল। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২ নভেম্বর শহিদ মিনারে সভা হবে। কিন্তু ওই দিন শহিদ মিনার ময়দানে অন্য কর্মসূচি রয়েছে। চেষ্টা চলছে ওই দিন কলকাতার অন্যত্র জমায়েত করার। একান্ত তা না-হলে, ১ নভেম্বর বা ১১ নভেম্বর হবে সেই সভা। দু’চার দিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে ফেলবে তৃণমূল। অভিষেক সেই সভায় থাকবেন। তবে দলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন কি না, তা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।

দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ডের’ দাবি, বিজেপি এক-আধ শতাংশ ভোট বাড়ালেও সেই বৃদ্ধি আসবে বামেদের খরচে ৷ ফলে, তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না । তাঁর মতে, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া আমাদের জন্য বড় সমস্যা নয় ৷ কারণ তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিই আমাদের আসল অস্ত্র।
উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে বিরোধিতায় প্রথম থেকেই সুর চড়িয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে বাংলায় যখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন, যখন কালীপুজোর পরই বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়ার জল্পনা চরমে, তখনই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিস্ফোরক মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়েও। যা নিয়ে বিতর্কের জলঘোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন, বাংলা থেকে এক জনেরও নাম বাদ গেলে বুঝে নেবেন। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি অভিযোগ করছিল, ওটা বার্তা নয় থ্রেট।