উত্তরপ্রদেশে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হল সাংবাদিককে

একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্য রাস্তায় এলোপাথারি কুপিয়ে খুন। যোগীরাজ্যে প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলায় প্রয়াগরাজের একটি হোটেলের সামনে নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ বসানো হয় ওই সাংবাদিকের শরীরে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই সাংবাদিককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নিহত সাংবাদিকের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ সিং ওরফে পাপ্পু। বছর ৫৪-র ওই সাংবাদিক বৃহস্পতিবার প্রয়াগরাজের সিভিল লাইনস এলাকার হর্ষ হোটেলের সামনে ছিলেন। তখনই আচমকা পাপ্পুর উপরে চড়াও হয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। একাধিকবার ছুরির কোপ বসানো হয় তাঁর উপর। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় পাপ্পুকে স্বরূপ রানি নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু  তারপরও শেষরক্ষা হয়নি। ন্যূনতম চিকিৎসার সুযোগটুকুও পাওয়া যায়নি। তার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পাপ্পু। তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কেন একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে এইভাবে কুপিয়ে খুন করা হল ? কীভাবে এমনটা সম্ভব ? যোগীরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক কোথায় গিয়ে ঠেকেছে ? এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু খুনের নেপথ্যে হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল, তাও এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অ্যাডিশনাল ডেপু্টি কমিশনার পুষ্কর ভার্মা জানাচ্ছেন, প্রয়াত সাংবাদিক পাপ্পু হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অশোক সিংয়ের ভাইপো ছিলেন। কিন্তু পাপ্পুকে কেন খুন করা হল, তার উত্তর এখনও স্পষ্টভাবে মেলেনি বলে জানাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা। গভীর রাতও তো নয়, ভর সন্ধেবেলায় যখন রাস্তায় মানুষের আনাগোনা থাকে, তখন প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে একজন সাংবাদিকের এই পরিণতি কী করে হতে পারে, তা মোটেও মেনে নিতে পারছেন না পাপ্পুর পরিবারের সদস্যরা। ঘরের ছেলের মৃত্যুর সুবিচার চায় পরিবার। খুনিদের কঠোর শাস্তি হোক, দাবি জানাচ্ছেন পাপ্পুর পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। কে বা কারা এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় পাপ্পুকে কুপিয়ে খুন করল ?  এর পিছনে কারণ কী ?  পুরনো শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে এই নৃশংস ঘটনার পিছনে, সমস্ত উত্তর পেতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপরাধীদের পাকড়াও করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলায় ওই ঘটনার পর, ওইদিন রাতেই পুলিশি তল্লাশিতে ধরা পড়ে মূল অভিযুক্ত বিশাল। পুলিশ ধাওয়া করতেই পালানোর চেষ্টা করে সে। শুরু হয় এনকাউন্টার। পুলিশি এনকাউন্টারে বিশালের পায়ে তিনটি গুলি লাগে। অভিযুক্ত বিশালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও দুই সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিশ। ওইদিন পাপ্পুকে খুনের ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল, অর্থাৎ বিশালের সহযোগীদেরকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।