মাম্পি রায়, সাংবাদিক: সুপ্রিমকোর্টে জোর ধাক্কা খেল কেন্দ্র। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী রাজ্যকে একশো দিনের কাজের টাকা দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। জানিয়ে দিল সুপ্রিমকোর্ট। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।

১৮ জুন কেন্দ্রীয় সরকারকে একশো দিনের বকেয়া টাকা বরাদ্দ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “পয়লা অগাস্ট থেকে রাজ্যে ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ চালু করতে হবে। তার জন্য যে ধরণের শর্ত বা বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে যে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেবিষয়ে নজর রাখতে হবে কেন্দ্রকে ৷আগে এই প্রকল্পের যে টাকা উদ্ধার হয়েছিল, তা আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের কনসোলিডেটেড ফান্ডে রাখতে হবে ৷ পরে সেখান থেকে কীভাবে বিলি করতে হবে, তার সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কেন্দ্রীয় কোনও পোর্টালের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “তদন্ত হচ্ছে, অর্থ পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে ৷ ঠিক আছে ৷ কিন্তু আসল কথা হল, যাঁদের টাকা পাওয়ার কথা, তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না ৷ তাই অবিলম্বে এই প্রকল্প চালু করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৷ ১ অগস্ট থেকে প্রকল্প চালু করতে হবে ৷”
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মনরেগার কাজে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা করতে পারল না কেন্দ্র। আখেরে জয় হল রাজ্যেরই।
সোমবার মামলাটির শুনানি ছিল সুপ্রিমকোর্টে। আপনারা মামলাটি তুলে নেবেন, নাকি আমরা খারিজ করবো? সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে প্রশ্ন করেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ৷ তারপর মামলাটি খারিজ করে দেন দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
করোনা পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর, ৪ বছর পর একশো দিনের কাজ শুরু হবে রাজ্যে।

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের পরই বিজেপিকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অভিষেক লিখেছেন, ” এই রায়ের মাধ্যমে আরেকবার পরাজিত হল বহিরাগত বাংলাবিরোধী জমিদাররা। কলকাতা হাইকোর্ট মনরেগার কাজ চালু করার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্র। মাননীয় সুপ্রিমকোর্ট কেন্দ্রের সেই আবেদনকে খারিজ করে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক রায় বাংলার মানুষের জয় ৷ বাংলার মানুষ দিল্লির ঔদ্ধত্যের সামনে মাথা ঝোঁকাতে নারাজ। যাঁরা মা মাটি মানুষের সমর্থন করেন, তাঁদেরকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে না পেরে অর্থনৈতিক ভাবে বঞ্চিত করার কৌশল নিয়েছিল ৷ দরিদ্র মানুষের মজুরি আটকে রেখে বাংলার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়েছিল ৷ আমরা তাঁদের কথা দিয়েছিলাম যে- তাঁদের অধিকারের , প্রাপ্য টাকার জন্য লড়াই করবো এবং তা ছিনিয়ে আনবো। সুপ্রিমকোর্টের এই রায় কেন্দ্রের মুখে গণতান্ত্রিক চড়। বিজেপির ঔদ্ধত্য এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা জবাবদিহি না করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। ওরা বাংলা থেকে টাকা নেয়। কিন্তু পাওনাটা দিতে অস্বীকার করে। এখন জনগণের ভোটে এবং সর্বোচ্চ আদালতে পরাস্ত হল তারা।

তাই আগে যেমনটা বলতাম, আবারও বলছি, চলবে না অন্যায়, টিকবে না ফন্দি, জনগণের আদালতে হতে হবে বন্দি। জয় বাংলা।”