রেস্তোরাঁয় পুলিশ আধিকারিকদের হেনস্থার মুখে ভাই-বোন। সমালোচনার মুখে মুখ খুলতে বাধ্য হল বিহার পুলিশ।
সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: বিহারের কাটিহার থেকে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিয়েছে। এক ভাই-বোনের সঙ্গে স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে পুলিশের অশালীন ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিহার পুলিশের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। CCTV ফুটেজে দেখা যাচ্ছে-
এক যুবক ও এক তরুণী রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে আছেন
হঠাৎই পুলিশ অফিসার টেবিলের সামনে গিয়ে প্রশ্ন করছেন,
‘তোমার পাশে উনি কে বসে আছে?’
যুবক উত্তর দেন, ‘উনি আমার বোন’
সঙ্গে সঙ্গে অফিসারের কড়া গলায় পাল্টা প্রশ্ন- ‘প্রমাণ আছে?’
‘তোমার কাছে কোনো আইডি আছে যে উনি তোমার বোন?’
এই ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ অক্টোবর, শুক্রবার, বিহারের কাটিহার জেলায়। পুলিশ সেই দিন রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল। সেই সময়ই এই ভাই-বোন রেস্টুরেন্টে বসে ছিলেন। স্থানীয় থানার অফিসার ইনচার্জ পুর্ণ সিং যাদব ও এক মহিলা কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন সেখানে। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়, যখন যুবক- যশ আগরওয়াল- CCTV ফুটেজটি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি ভিউ পায়। ভিডিও ভাইরাল হতেই বিহার পুলিশের আচরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন-
ভারতীয় পুলিশদের আগে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
আরও একজন মন্তব্য করেন- অফিসার চিৎকার চেঁচামেচি করলেও, ছেলেটি শান্তভাবে উত্তর দিয়েছিল
অনেকেই বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ঘটনাই নয়- বরং পুলিশের আচরণের সামগ্রিক সমস্যা উঠে এসেছে তার ব্যবহারে। ঘটনার পর থেকেই কাটিহার পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছে অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। সাক্ষীরা জানান, ওই অফিসার অযথা তর্ক শুরু করেন এবং ভিত্তিহীন আচরন করেন। রেস্টুরেন্টে উপস্থিত সাধারণ মানুষরা অফিসারের ব্যবহারে চমকে যান, কেউ কেউ ঘটনাটির ভিডিও করে রাখেন। এই ঘটনার পর চাপে পড়ে বিহার পুলিশ। কাটিহার পুলিশ প্রশাসন একটি প্রেস রিলিজ জারি করে জানিয়েছে-
তাদের কাছে খবর ছিল, রেস্টুরেন্টে কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তি রয়েছেন
তাই তারা ওই ব্যক্তিকে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে
কিন্তু, পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, কথাবার্তা চলাকালীন ওই ব্যক্তিরা নাকি “সন্তোষজনক উত্তর” দিতে পারেননি, ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ঘটনার সময় পুলিশ ও ওই ব্যক্তিদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়, যা পরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পরিণত হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানার ইনচার্জকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে।’ তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যায় সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট নন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন – এক ভাই-বোন রেস্টুরেন্টে বসলে তাতে সন্দেহজনক কী থাকতে পারে? ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বলছেন, নির্বাচনের সময় পুলিশ প্রায়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করে। একজন মন্তব্য করেন-
বিহারে অফিসাররা ভাবেন, সবকিছুই তাদের দখলে
নাগরিকদের হয়রানি করা তাদের অধিকার!

পুলিশের আচরণের সংস্কার নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে এই ভিডিও। প্রশাসনিক দিক থেকেও দাবি উঠেছে- পুলিশের ‘সফ্ট স্কিল ট্রেনিং’ জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা আরও মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণ করতে শেখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন পুলিশের ভূমিকা ও নাগরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় পুলিশ প্রশাসনের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। যশ আগরওয়াল জানান, তিনি পুলিশের আচরণে অপমানিত বোধ করেছেন। তারা রেস্টুরেন্টে শান্তভাবে বসেছিলেন, কিন্তু অফিসার তাদের সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করলেন যেন তারা অপরাধী! এক ভাই-বোনের সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অপমান নয়। এটি একটি বড় প্রশ্ন তুলছে- আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলার রক্ষকরা কতটা নাগরিকবান্ধব, তা নিয়ে। এখন দেখার বিষয়- প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে।