ফের তৃণমূলে কানন!

৭ বছর পর ঘর ওয়াপসি, ছাব্বিশের আগেই তৃণমূলে শোভন-বৈশাখী

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক: সাত বছর পর দলে প্রত্যাবর্তন হল শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দলে ফেরার কথা ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁদের হাত ধরেই ঘাসফুল শিবিরে পুনঃপ্রবেশ ঘটল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— আসন্ন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি ফের প্রার্থী করা হবে শোভনকে? সূত্রের খবর, বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনিক দায়িত্বে ফেরার পর থেকেই শোভনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত মিলেছিল। কিছুদিন আগেই তাঁকে নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA)-র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়। তার আগে দলীয় স্তরে ও ব্যক্তিগত পরিসরে বেশ কয়েকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভন-বৈশাখীর বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যোগসূত্রই শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফের তৃণমূলের পতাকার তলায় নিয়ে এসেছে।

২০১৮ সালে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় শোভন চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রিত্ব থেকে। দীর্ঘ সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় তাঁকে গেরুয়া শিবিরের তারকা প্রচারক হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলের সঙ্গে মতভেদ দেখা দেয়, এবং তাঁদের কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে দেখা যায়।

পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে পুরনো দল ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। প্রতি বছর ভাইফোঁটায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ অব্যাহত থাকে। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর গত মাসে দার্জিলিংয়ের রিচমন্ড হিলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় শোভন-বৈশাখীর। তার পরপরই এনকেডিএ-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান প্রাক্তন মেয়র। সোমবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফেরায় তৃণমূল সংগঠনে নতুন বার্তা দিয়েছে। বিশেষত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর পুনঃপ্রবেশ ঘাসফুল শিবিরকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।