SIR – এর প্রতিবাদে রাজপথে মুখ্যমন্ত্রী। রাজপথে নেমে মোদী- শাহকে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
মাম্পি রায়, সাংবাদিক: সামনেই ২০২৬-এর নির্বাচন। তার আগে বাংলায় এসআইআর চালু হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে চরমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। ইতিমধ্যে রাজ্যে একাধিক আত্মহত্যা ঘটেছে , তাঁরা এসআইআর আতঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজপথে নেমে বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেড রোড থেকে শুরু হয়ে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত এগোয় মিছিল। পায়ে হেঁটে মিছিলে সামিল হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা মন্ত্রীরা এবং টলি অভিনেতা অভিনেত্রীরা। জোড়াসাঁকোতে মিছিল শেষ হওয়ার পর সেখানে বক্তব্। রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “তালিকা মিথ্যা হলে আপনার সরকারও মিথ্যা।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন- ” ২০২৪ সালে আপনারা যে জিতেছিলেন, কোন ভোট নিয়ে জিতেছিলেন? কোন ভোটার লিস্ট ছিল? যদি এই তালিকা মিথ্যা হয়, তাহলে আপনার সরকারও মিথ্যা। আপনাদের চেয়ারও মিথ্যা। ”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ” দেশে এক মীরজাফর আছে, যাঁর হাতে রক্তের দাগ রয়েছে। আপনি কি ভাবছেন? ওরা সব স্বর্গে যাবে? নিজেদের দলেই তো কত বিভেদ? আসলে বাংলার ওপর খুব রাগ ওদের। বাংলার সঙ্গে ওরা পেরে ওঠে না। সেইজন্যই গদিওয়ালারা ভাবছে, যেন তেন ভাবে ২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিই। কিংবা তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে বা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিই।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমি শুনেছি, ওরা বলছে, জোর করে ২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিলে আমরা নাও জিততে পারি। আর এখন অন্য কথা বলছে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস নাকি ৪০ শতাংশ পেয়েছে , ওরা নাকি পেয়েছেন ৩৯ শতাংশ পেয়েছে। যত দূর মনে পড়ছে, ২০০৪ সালে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে একাই জিতেছিলাম বাংলায়, আর কেউ এই হারে ভোট পেয়ে জিততে পারেনি।”

কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “দিল্লির কাছে বশ্যতা স্বীকার করব না। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে যে মামলা হয়েছিল, তাতে বাংলার মানুষের জয় হয়েছে। এসআইআর ইস্যুতে যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। যাকে খুশি বাংলাদেশি বলে ডিপোর্ট করে দিচ্ছে। এই ইস্যুতেও আগামিদিনে দিল্লি যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার ক্ষমতা ঠিক কতটা তা দেখবে দিল্লি। মানুষ আগেই ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করছে। আজ মোদী সরকার পছন্দের ভোটার বেছে দিচ্ছে। তা হয় না।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, “ঠাকুরবাড়ির এলাকায় দাঁড়িয়ে বলে যাচ্ছি, যাঁরা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আর সেটা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতানোর লড়াই নয়। বিজেপিকে তাড়ানোর লড়াই।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ”লালকৃষ্ণ আডবানির জন্ম তো করাচীতে হয়েছিল। তাহলে কি তিনিও ভোট দিতে পারবেন না? কোনও মতুয়া বা রাজবংশী ভাইকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বের করতে দেব না।”