বিহার বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা

আইএএনএস ম্যাট্রাইজ, পোলস্ট্রেট এবং চানক্য। তিনটি সমীক্ষা সংস্থা। কিন্তু বুথফেরত সমীক্ষার ফল একই। সমীক্ষার ফল বলছে ক্ষমতায় আবার ফিরছে মোদী-নীতীশ জোট।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার প্রচার থামার আগে বুথফেরত সমীক্ষার ফল ঘিরে উত্তপ্ত হল রাজনীতি। আইএএনএস ম্যাট্রাইজ, পোলস্ট্রেট এবং চানক্যর বুথফেরত সমীক্ষার ফল ইতিমধ্যে এসে গিয়েছে। তিন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা হলেও, ফলাফল একই এসেছে। সার্ভের ফল দেখে মনে হচ্ছে বিহারের মানুষ এখনই প্রশাসন বদলের পক্ষে নন। বিহারের মানুষ রাজ্যে নীতীশ কুমারকেই চান এবং তাঁরা নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তাতেই আস্থা রাখতে চান। বিরোধীদের কাছে বেকারদের কর্মসংস্থান, শিক্ষার মতো ইস্যু থাকতেও বুথফেরত সমীক্ষার ফল বলছে বিরোধীদের প্রতিশ্রুতিপত্র বিহারের জনগণের মনে দাগ কাটতে পারেনি। এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বুথফেরত সমীক্ষার ফল কী বলছে-

আইএএনএল ম্যাট্রাইজের বুথফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, এনডিএ পেতে পারে ১৫৩ থেকে ১৬৪টি আসন। ইন্ডিয়া মহাজোট পেতে পারে ৭৬ থেকে ৮৭টি আসন। পোলস্ট্রেটের সমীক্ষা বলছে, এনডিএ পেতে পারে ১৩৩ থেকে ১৪৩টি আসন। মহাজোট পেতে পারে ৯৩ থেকে ১০২টি আসন।

চাণক্যর সমীক্ষা বলছে, ১২৮ থেকে ১৩৪টি আসন পেতে পারে এনডিএ। বিরোধী মহাজোট পেতে পারে ১০২ থেকে ১০৮ট আসন।

৩টে সমীক্ষা সংস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও এরা ৩জনই একমত যে বিহারের শাসন আপাতত এনডিএর হাতেই থাকবে। সমীক্ষার ফল ভালোভাবে খেয়াল করলে বুঝবেন, গড় হিসেব করলে এনডিএ পেতে পারে ১৪০টি আসন। যা ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবেই গণ্য হবে। অন্যদিকে মহাজোট এই তিনটি সমীক্ষা অনুযায়ী পেয়েছে ৭৬ থেকে ১০৮টি আসন। অন্যান্যরা পেয়েছে ২ থেকে ৯টি আসন।

সবমিলিয়ে তিনটি সমীক্ষা সংস্থা বলছে যে, নীতীশ কুমার এবং নরেন্দ্র মোদীর জুটিতেই আস্থা রাখছেন তাঁরা। এই জুটি এখনও বেশ শক্তি ধরে রেখেছে। সুতরাং ২০২৫-এর বিহার নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং পুরনো ক্ষমতাই ফিরবে। বুথফেরত সমীক্ষার ফল অন্তত এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে।  

এদিকে পিছিয়ে নেই বিরোধীরাও। একদিকে তেজস্বী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিহারে ক্ষমতায় এলে মা-বোনেরা এককালীন ৩০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে জান প্রাণ দিয়ে প্রচার করে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। রবিবার বেগুসরাইয়ে রাহুলের জনসভা থেকে ফেরার সময়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য নৌকায় চড়েন রাহুল। হঠাৎ পুকুরের মাঝখানে পৌঁছে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। জেলেদের সঙ্গে জাল টেনে মাছও ধরলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী মরিয়া চেষ্টা করছেন যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। এদিকে আবার মহাজোটের ইস্তাহার পত্রেও একের পর এক চমক দিয়েছেন তেজস্বী রাহুলরা। কিন্তু বুথফেরত সমীক্ষার ফল বলছে তা মোটেও দাগ কাটতে পারেনি বিহারের জনগণের মনে।