চিকিৎসকের চেহারায় সন্ত্রাসবাদী!

ফরিদাবাদ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ৭জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পুলিশের হাতে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদ ও উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে একটি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক করা হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে এই মডিউলের সন্ধান পায় পুলিশ। মোট ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক এবম মৌলবীও। নিরাপত্তা এজেন্সি ৩৬০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক, গোলা বারুদ এবং রাইফেল উদ্ধার করেছে।

সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে চিকিৎসক এবং মৌলবী

তদন্তকারী এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী ধৃত সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে একাধিক শিক্ষিত যুবক এবং মেডিক্যাল প্রফেশনাল রয়েছে। এই হামলার পরিকল্পনার পিছনে ৭জনের নাম সামনে এসেছে।

হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলায় বিস্ফোরণের ছক ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ জানাচ্ছে, ফরিদাবাদের ফতেহপুর তাগা গ্রামের ২,৫৬৩ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বারুদের পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা বহন করার জন্য বড় ট্রাক আনতে হয়েছে। শুরুতে পুলিশ মনে করছিল, সন্দেহজনক বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। সকাল থেকেই ওই এলাকায় ফরিদাবাদ পুলিশ ও জম্মু-কাস্মীর পুলিশ যৌথ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। এর আগে ফরিদাবাদে ধৌজ এলাকায় ৩৬০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশ দুজন চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাঠোর ও মুজাম্মিল শাকিলকে গ্রেফতার করেছে। মুজাম্মিল ধৌজ ও ফতেহপুর তাগা গ্রামে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিল।

গ্রেফতার করা হয়েছে ডাক্তার আদিল আহমেদ রাঠোরকে। যে কুলগামের বাসিন্দা। অনন্তনাগ জিএমসির সিনিয়র রেজিডেন্ট ডাক্তার। সাহারানপুর থেকে ২৭ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল, যে পুলওয়ামার বাসিন্দা। ১০দিন আগে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। মুজাম্মিল ফরিদাবাদের অলসফা ইউনিভার্সিটির মে়ডিক্যাল ছাত্র এবং ফিজিশিয়ানের কাজ করে। এছাড়াও এই সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হল সোপিয়ানের বাসিন্দা মৌলবী ইরফান আহমেদ, যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শ্রীনগরের মকসুদ আহমেদ ডার, আরিফ নিসার ডার এবং ডাল আশরফকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গান্দেরবালের জমীর আহমেদ অহংগরও এই হামলার ছকে সামিল ছিল।

লেডি ডাক্তারের গাড়ি থেকেও বাজেয়াপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র

একজন মহিলা চিকিৎসকের গাড়ি থেকে অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল এবং তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িটি ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল নামে এক সহযোগীর নামে রেজিস্টার্ড করা আছে। যে ফরিদাবাদের এক হাসপাতালে কর্মরত। ওই মহিলা চিকিৎসককেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে-

১ ক্যানন কক অ্যাসল্ট রাইফেল, ৩ ম্যাগজিন, ৮৩ তাজা কার্তুজ

১ পিস্তল, ৮ তাজা কার্তুজ, ২ খালি কার্তুজ, ২ ম্যাগজিন

৮ বড় স্যুটকেস

৪ ছোট স্যুটকেস

১টি বালতি

৩৬০ কেজি বিস্ফোরক, যা অ্যামেনিয়াম নাইট্রেট হতে পারে।

২০ টাইমার্স

৪ ব্যাটারির টাইমার্স

২৪টি রিমোট

৫ কেজি হেভি মেটাল

ওয়াকিটকি সেট, ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং, ওয়ারিং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।