দিতিপ্রিয়া সেন, প্রতিনিধি : সোমবার, ১০.১১.২০২৫ সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১–এর বাইরে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। একটি সাদা রঙের Hyundai i20 গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর হরিয়ানার, হঠাৎ বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায় আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
দমকল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৩ জনের বেশি আহত। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটিতে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) ব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়ির মালিককে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে Delhi Police, NIA ও Bomb Squad যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কিছু সার্কিট বোর্ড, ব্যাটারি এবং বিস্ফোরকের অংশবিশেষ, যা বিশ্লেষণের জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রো স্টেশন, রেলওয়ে টার্মিনাল, বিমানবন্দর ও পর্যটন এলাকাগুলোতে তল্লাশি অভিযান চলছে। কেন্দ্র সরকার সমস্ত রাজ্যকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গেও জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন, মেট্রো রেল, বিমানবন্দর এবং বড় বড় বাজার এলাকায় ব্যাগ ও লাগেজ তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে শিয়ালদহ, পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড ও হাওড়া মোড়ে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে ট্রাফিকের চাপ বেড়েছে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো, বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মালদহতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
এই বিস্ফোরণ শুধু দিল্লিতেই নয়, সমগ্র দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের রাজধানীর মতো একটি উচ্চ সুরক্ষিত অঞ্চলে এই ধরনের বিস্ফোরণ প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং গোটা ঘটনার রিপোর্ট তদারকিতে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।