আগাম হাই এলার্ট জারি ইসলামাবাদে

আরও একবার কি সিদূর কৌটো খোলার সময় এল? মাস কয়েক আগে কাশ্মীর হামলার বদলা হিসাবে পাকিস্তানকে উপহার দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সিদূর। যার জেরে ভয়ে থরহরিকম্প দশা হয়ে গিয়েছিল সেই দেশের, এই প্রত্যাঘাত দিয়ে কার্যত কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের, করা হয়েছিল ওয়াটার স্ট্রাইকও এর পর মোটের ওপর সব চুপচাপ থাকলেও আসলে দেশটার নাম তো পাকিস্তান বারবার ভারতকে উত্যক্ত করতে যারা ভালোবাসে, সোমবারের সন্ধের ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেপে উঠেছে দিল্লি, যার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৩, আহত এখনও অবধি ২৬ সেই ঘটনাতেও নাকি পাক-যোগ! অর্থাৎ প্রশ্ন উঠছে তার মানে কি ফের পাকিস্তানে মাথা চাড়া দিচ্ছে সন্ত্রাসগোষ্ঠী? জানা যাচ্ছে সোমবার সন্ধ্যায় ওই মারণ হামলার নেপথ্যে রয়েছে মাসুদ আজাহারের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। যে গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়েছিল তা পুলওয়ামার তারিকের কাছে বিক্রি হয়েছিল। হুন্ডাই আই২০ গাড়ির মালিকদের মধ্যে একজন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা। হরিয়ানার গুরুগ্রামের পুলিশ মহম্মদ সলমন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যিনি HR26 CE 7674 নম্বর প্লেটযুক্ত i20 গাড়ির আসল মালিক। তবে, সলমন পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি গাড়িটি তারিক নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা। এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয় যে তারিক গাড়িটি তৃতীয় পক্ষের কাছে পুনরায় বিক্রি করেছিলেন কি না। তবে পুলিশ এখন গাড়ির আসল মালিককে শনাক্ত করার জন্য RTO-এর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করছে বলে খবর। জানা যাচ্ছে যে গাড়িটি ক্রয়-বিক্রয়ে জাল নথি ব্যবহার করা হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের আগে ঘাতক গাড়িটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল দিল্লির সুনহেরি মসজিদের সামনে। বিস্ফোরণের পরে আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা লালকেল্লার কাছে একটি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিল গাড়িটি। গাড়িটিতে নীল-কালো রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে ফুটেজে।ওই ব্যক্তিই চিকিৎসক উমর উন নবি,। ফরিদাবাদকাণ্ডে গ্রেফতার দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল রাথারের সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে আর দুই সহযোগীর গ্রেফতারির পরেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন উমর। মুজাম্মিল এবং আদিলের গ্রেফতারির পরে তিনি ভয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। গাড়ির মধ্যে রাখা ডিটোনেটর থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে আর সেই বিস্ফোরক রাখার কাজ করেছে ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক উমর, এমনটাই অনুমান। যদিও বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্তে দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি রয়েছেন। মাঝপথে উমর নেমে গিয়ে অন্য কেউ চালকের আসনে বসেছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ফলে দিল্লির বিস্ফোরণে উমরের মৃত্যু হয়েছে একথাও স্পষ্ট করে বলা যায় না। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, দুই সঙ্গীকে নিয়ে আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল উমরের। এই উমর জইশ-সংঘের হরিয়ানার ফরিদাবাদ মডিউলের সদস্য বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কে এই উমর? ১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জন্ম উমরের।
আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাস মডিউলের অন্যতম সদস্য তিনি।যাদের সম্প্রতি জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে। এই ধৃতদের কারও কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না। তবে কাশ্মীরে জইশের সমর্থনে পড়া পোস্টারের সূত্র ধরে এই চিকিৎসকরা ধরা পড়ে।দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে এই চিকিৎসকদের স্লিপার সেলের সরাসরি যোগ আছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।জানা যাচ্ছে এই হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে, যা সার তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও বোমা তৈরির কাজেও লাগে। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দলে ফরিদাবাদের দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও হাজার হাজার কিলো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। দুটি বাড়িই ভাড়া নিয়েছিলেন মুজাম্মিল শাকিল। সম্ভবত গাড়ির পেছনের অংশ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। এনএসজি এবং এফএসএল টিমের তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট হবে এটি ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরণ ছিল। তবে বিস্ফোরণস্থল ও যেভাবে দেহগুলি পুড়ে গিয়েছে তাতে অনুমান আইইডি বা ওই ধরনের কোনও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। হামলার ধরন দেখে তদন্তকারীরা অনুমান করছেন এর নেপথ্যে জইশ-ই-মহম্মদের হাত রয়েছে। এভাবে গাড়ি বোমা ব্যবহার করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ জইশের পরিচিত হামলার ছক। ইতিমধ্যেই আকাশপথে ভারতের প্রত্যাঘাত সামলানোর জন্য মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সতর্কতা জারি করেছে পাকিস্তান। তারা আকাশপথে বিধিনিষেধ জারি করেছে। একইসঙ্গে সীমান্তেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতে ঘটে যাওয়া যে কোনও জঙ্গি হামলা বা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের যোগ থাকার সন্দেহ তৈরি হয়।

দিল্লিতে সোমবারের বিস্ফোরণের ক্ষেত্রেও সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের আচরণ সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফের সীমান্তে সংঘর্ষের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই কারণেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের সব বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সব বিভাগের জন্যই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এর আগে সম্প্রতি হায়দরাবাদের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছিল গুজরাট থেকে। ধৃত ডঃ আহমেদ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাইসিন নামক বিষ তৈরি করার চেষ্টা করছিল সে। বিভিন্ন শহরে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়াই ছিল এই ডাক্তারের উদ্দেশ্য। এর জন্য নাকি দিল্লি সহ বিভিন্ন শহরে রেকি চালিয়েছিল সে। এই মহিউদ্দিনকে গুজরাট সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড ধরে পাক অস্ত্র সমেত। ড্রোন দিয়ে সেই সব অস্ত্র পাচার করা হয়েছিল এদেশে। বাজেয়াপ্ত করা হয় দুটো বন্দুক ৩০টি কার্তুজ। সঙ্গে চার কেজি ক্যাস্টর বীজ বাটা। যা থেকে রাইসিন তৈরি করা হত। এই ডাক্তারের সঙ্গে যোগ ছিল আইএস খোরাসানের। জেরায় এই ডাক্তার জানায়, পাক হ্যান্ডলার বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ড্রোন মারফত পাঠিয়েছিল ভারতে। তার আগে সম্প্রতি আবার পুণের এক আইটি ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আইইডি ম্যানুয়াল সমেত। তাই প্রশ্ন উঠছে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে হোয়াইট কলার স্লিপার সেল গঠন করে কি নয়া ছক কষছে নির্লজ্জ পাকিস্তান ?