পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, কেস ডায়েরি তলব হাইকোর্টের

এক ব্যক্তিকে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করলে, সেখানেও হুমকি হুঁশিয়ারির অভিযোগ। নির্বিকার পুলিশ। প্রতিবাদে হাইকোর্টের দ্বারস্থ পরিবার।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: দমদম নাগেরবাজারের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বাসিন্দাকে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টার অভিযোগ। মামলার কেস ডায়েরি তলব করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ  কলকাতা হাইকোর্টের। ২৮ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি।

আবেদনকারীর আইনজীবী শুভব্রত দত্ত বলেন, “পুরপিতা মৃন্ময় দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ। রুবি কর্মকার বেদিয়াপাড়া তারক নাথ কলোনির বাসিন্দার দাবি, ভোর ৪টে নাগাদ তাঁর স্বামী রনজিৎ কর্মকার কাজে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন ৩ দুষ্কৃতী পিছন থেকে তাঁর গায়ে  পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঘটনায় এলাকার তিন দুষ্কৃতী সুশান্ত, সুমন ও সাগর এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা বলে বুবাই বলেছে আগুন ধরিয়ে দিতে। পৌরপিতা যা বলেছে তাই শুনেছি আমরা ।

 রনজিতকে আরজিকের ভর্তি করা হয়। পুরপিতা মৃন্ময় দাস হাসপাতালে গিয়েও হুমকি দিয়ে এসেছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, টাকা দিয়ে কেস তোলার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁরই নির্দেশে সম্পূর্ণ সুস্থ না করে হাসপাতাল রনজিতকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আবেদনকারী রণজিতের চিকিৎসা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রথমে এই অভিযোগের গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ। পরে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।“ – জানান আবেদনকারীর আইনজীবী শুভব্রত দত্ত।

এদিকে সব শুনে রাজ্যের আইনজীবী জানান. “পুলিশের কাছে অভিযোগের পরেই FIR করি এবং ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় ব্যবহৃত স্কুটিটিকে সিজ করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ছে। হুমকি দেওয়ার যে অভিযোগ রণজিতের পরিবার তুলছে, তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর।“

এদিকে কাউন্সিলরের আইনজীবী আদালতকে জানান, “রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারী আগের দিন এই তিনজনকে হুমকি হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিল।“

সবপক্ষের বক্তব্য শুনে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানিতে মামলার কেস ডায়েরি জমা করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নথিভুক্ত করতে হবে।

আবেদনকারী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখবে স্থানীয় পুলিশ।

আবেদনকারীদের নিরাপত্তার দিতে হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ নভেম্বর। ওই দিন আবারও মামলাটি শুনবেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।