উমর নবীর ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া ওয়েইসির

“ইসলামে আত্মহত্যা হারাম। নিরীহ মানুষের হত্যা করাটা বড় পাপ। এমন কাজ শুরুমাত্র ধর্মই নয়, আইনকেও লঙ্ঘন করে। এটা স্পষ্ট সন্ত্রাসবাদ।“

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে। এই আবহে উমর নবীর একটি পুরনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওটি পুরনো হলেও, বর্তমানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ভিডিওটি। অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ-ইত্তেহাদুল মুস্লিমীন অর্থাৎ এআইএমআইএমের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছেন- “ইসলামে আত্মহত্যা হারাম। নিরীহ মানুষের হত্যা করাটা বড় পাপ। এমন কাজ শুরুমাত্র ধর্মই নয়, আইনকেও লঙ্ঘন করে। এটা স্পষ্ট সন্ত্রাসবাদ। আর কিছু নয়। এমন চিন্তাভাবনা সমাজ এবং দেশ দুইয়ের পক্ষের বিপজ্জনক।“

দিল্লি বিস্ফোরণের ইস্যু তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন ওয়েইসি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “অপারেশন সিঁদুর এবং অপারেশন মহাদেবের সময় অমিত শাহ সংসদে দাবি করেছিলেন, গত ৬ মাসে স্থানীয় কোনও কাশ্মীরি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে সামিল হননি। যদি তা নাই হয়, তবে এই আত্মঘাতী বোমারুরা কোথা থেকে এল? এদের খোঁজ না পাওয়ার পিছনে ব্যর্থতা কার ? “

দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যে উমর নবীর নাম উঠে এসেছে। নিরাপত্তা এজেন্সি এই মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীদের হাতে উমরের একটি ভিডিও এসেছে। যা দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে করেছিল উমর। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল চক্রী তথা চিকিৎসক উমর নবি। যেখানে উমর বলেছে, আত্মঘাতী বোমারু নিয়ে সমাজের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সাধারণ বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আত্মঘাতী বোমার কতটা ফারাক।  কেন আত্মঘাতী বোমারু বানানো হয়।  খুব সংক্ষেপে সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে আত্মঘাতী বোমারু। উমরকে বলতে শোনা যায় যাদের আত্মঘাতী বোমারু বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা আসলে আত্মঘাতী বোমারু নন। তাঁরা আসলে ইসলামের এক একজন শহিদ। আত্মঘাতী বোমারুদের শহিদ বলে ব্যাখ্যা দেয় উমর নবি।

আত্মঘাতী বোমারু সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ‘মার্টারডম অপারেশন’-এর কথাও শোনা যায় তার মুখে। উমর নবী বলছে, “আত্মঘাতী হামলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যখন কোনও ব্যক্তি এটা মেনে নেন যে, তাঁর মৃত্যু একটি নিশ্চিত সময়, নিশ্চিত স্থানে হবে, তখন তাঁকে একটি ভয়ানক মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তখন তিনি এটাই মেনে চলেন যে, মৃত্যুই তাঁর একমাত্র গন্তব্য। একটা বিশেষ লক্ষ্যে, বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। আর তাঁকে শুধু আত্মঘাতী বোমারু বলেই দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। আর এখানেই আত্মঘাতী বোমারু বা হামলা নিয়ে ভুল ধারণা সমাজের।“

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উগ্রপন্থী প্রচারমূলক কনটেন্ট দেখতেন এবং গোপনে তা প্রচারও করত। যে কোনও নাশকতার কার্যকলাপের পিছনে দীর্ঘদিন ধরে চলে মগজধোলাই। এই ভিডিয়ো দেখে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে উমর মগজধোলাই করছে। বোঝানো হয় যে আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু হওয়াটা ভাল। এভাবেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীদেরও নাশকতার কার্যকলাপে টেনে আনা হয়।