ইন্টারভিউ তালিকায় ‘দাগি’ প্রার্থীদের নিয়ে সিদ্ধান্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইন্টারভিউ তালিকায় থাকা ‘দাগি’ প্রার্থীদের নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ‘দাগি’ তালিকায় নাম থাকলে কোনও প্রার্থী নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। যদি কেউ অংশ নিয়েও ফেলেন, তা হলে তাঁর নাম অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।

বিচারপতির মন্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উদ্দেশ্য ছিল—যেন কোনও “চিহ্নিত অযোগ্য” প্রার্থী নতুন নিয়োগে সুযোগ না পান। তবে অযোগ্য নন, এমন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ—“সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রার্থী অযোগ্য হলে বিশেষ ভাবে সক্ষমরাও সেই সুবিধা পাবেন না।”

এছাড়াও আদালতের মত, “অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশে শুধু নাম দিলেই হবে না।”

কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইটে ওএমআর শিট আপলোড করতে। পাশাপাশি অযোগ্য প্রার্থীদের নামের পাশে তাঁদের সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে সহজে তাঁদের শনাক্ত করা যায়। বিচারপতি সিনহা বলেন, এতে পুরো প্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

সুপ্রিম কোর্ট একাধিকবার সতর্ক করা সত্বেও, SSC-র প্রকাশিত একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ের তালিকায় দাগি প্রার্থীর নাম রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার  বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। একাধিকবার সতর্ক করার পরও কী করে, দাগি প্রার্থীদের নাম ইন্টারভিউ তালিকায় ঢুকে গেল? কার গাফিলতি রয়েছে এর পিছনে ? তবে কি এসএসসির গাফিলতিতেই ইন্টারভিউ তালিকায় আবারও উঠে গেল দাগিদের নাম? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। 

দাগি প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জনের নাম মামলায় উল্লেখ করেছেন মামলাকারীরা। তাদের মধ্যে ২ জন বিশেষভাবে সক্ষম। কমিশন আদালতে জানিয়েছে, বিশেষভাবে সক্ষম ওই প্রার্থীদের কিছু ছাড় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তি শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন,  সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কিছু ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বাকি যে দুজন দাগি। এরা কেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে ? বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশেষ সুবিধা মানে বয়সজনিত ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাকি যে দুজন দাগিকে ইন্টারভিউ তালিকায় ঢোকানো হয়েছে, তারা তো চিহ্নিত অযোগ্য, দাগি প্রার্থী! তাহলে তারা কেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন? তাই এই দুজন দাগি প্রার্থীকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশন।