কলকাতায় ভূমিকম্প, একে অপরকে কটাক্ষ বিজেপি ও তৃণমূলের

ভূমিকম্পের পিছনেও কি এসআইআর ? বিজেপির কটাক্ষ। তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ, “তোমাদের পায়ের নীচের জমি নড়ে গিয়েছে”।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: শুক্রবার আচমকা কেঁপে উঠল শহর কলকাতা। ভারতের ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাটি থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল।

কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভূমিকম্প টের পাওয়া গিয়েছে। হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদেও অনুভূত হয়েছে মৃদু কম্পন। অনেকে বলছেন প্রায় ১মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। ঘরের পাখা, চেয়ার, টেবিল সবই দুলছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সেই ভিডিও প্রকাশ করেছেন।।

বাংলাদেশেও ভূমিকম্প টের পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্য সূত্রে খবর, রাজধানী ঢাকা-সহ বিভিন্ন প্রান্তে কম্পনের ফলে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন মানুষ। বরিশালেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কথা প্রকাশ্যে আসতেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিজেপি। বিজেপি পোস্ট করেছে, “পশ্চিমবঙ্গে কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটা কি এসআইআরের কারণে হয়েছে?”

এই পোস্টের পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূল লিখেছে, “এটা আসলে রাজ্যে বিজেপির পায়ের তলার জমি নড়ছিল। কারণ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তারা গো হারা হারতে চলেছে। চিন্তা করবেন না। ভূমিকম্পের কম্পনের থেকে দিল্লির জমিদাররাও বঞ্চিত হবেন না”

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এসআইআর বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “বিএলওদের এসআইআরের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হোক”।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে লিখেছেন, “জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক বিএলও আত্মহত্যা করেন সম্প্রতি। বৃহস্পতিবার কোন্নগরে এসআইআর-এর ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান বিএলও তপতী বিশ্বাস। হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক জানান, সেরিব্রালে অ্যাটাক হয়েছে। শরীরের বাম দিক অসাড় হয়ে গিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েন আরেক বিএলও। ”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, “এসআইআর কোনও গঠনমূলক কারণে হচ্ছে না। বরং অবৈধ ভোটব্যাঙ্ককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য হচ্ছে।” এমন বার্তাই কমিশনে পৌঁছে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুভেম্দুর অভিযোগ, “ভোটের স্বার্থে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এতদিন ধরে সুরক্ষা দিয়ে এসেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআরের ফলে বিভিন্নজায়গা থেকে পাততারি গুটিয়ে পালাচ্ছেন বাংলাদেশিরা। হাকিমপুরে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি, নির্বাচন কমিশনের উপর, মানুষের যে আস্থা, তাতে আঘাত হানছে।”