“ জোড়াফুলকে সুপারিশ করেছে পদ্মফুল। ভারতীয় জনতা পার্টির পরিচালক রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ, রাজ্যে জোড়া ফুলকে নীতি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে থাকে ওই সংগঠন”

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : “ জোড়াফুলকে সুপারিশ করেছে পদ্মফুল। ভারতীয় জনতা পার্টির পরিচালক রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ রাজ্যে জোড়াফুলকে নীতি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে থাকে” – বিস্ফোরক দাবি, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর। মঙ্গলবার বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে জেলা সিপিআইএম আয়োজিত ‘স্মরণে কমরেড কিঙ্কর পোষাক’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই বক্তব্য রাখলেন বিমান বসু। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ”একবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের মুখপত্র পঞ্চজন্যের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাদের দেশপ্রেমিক ও নানান বড় বড় কাজ করেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। অতীতের জনসংঘ, বর্তমানের ভারতীয় জনতা পার্টির স্বাধীনতা সংগ্রামে কোন ভূমিকা ছিল না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সদস্যরা স্বাধীনতা আন্দোলনে বিন্দুমাত্র অংশগ্রহণ করেননি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে দেশ থেকে তাড়ানোর জন্য যারা বিন্দুমাত্র সময় ব্যায় করেননি, ত্যাগ স্বীকার করেননি, আজ তাদের বলা হচ্ছে কত বড় দেশপ্রেমিক!” এমনই মন্তব্য করেন বিমান বসু।
বাম নেতার দাবি, “আমন্ত্রণ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরএসএসের সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছেন, আপনাদের এখানে না এলে জানতেই পারতাম না আপনারা কত্ত বড় দেশপ্রেমিক, দেশের জন্য কত কাজ করেন।”
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ”যিনি বিজেপির বিরোধিতা করছেন, তিনিই তো বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন, কয়লামন্ত্রী ছিলেন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাননি ? তাঁর মায়ের হাতের মালপোয়া খাননি ? ”- প্রশ্ন তোলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

বনগাঁয় এসআইআর নিয়ে সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ”খেলতে নামলে আমাকে ধরতে পারা খুব মুশকিল।” এই নিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের কটাক্ষ, ”এটা ঠিক, কারণ কখন কার সঙ্গে তিনি গাঁটছড়া বাঁধবেন,সেটা বোঝা খুব মুশকিল।”
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান আরও বলেন, ”এসআইআর নিয়ে একটা কথা বলতে পারি, আমি বাড়ি ছেড়ে যখন চলে আসলাম যখন আমার নামটা কেটে দিতে বলেছিলাম। এই আবেদন জানিয়ে সিইওকে চিঠি দিয়েছিলাম। আমার দু জায়গার নাম কেটে আলিমুদ্দিনের নাম তুলতে হবে বলে লিখেছিলাম চিঠিতে। সিইও বলেছিলেন, এমন খুব কম মানুষকে দেখেছি, যিনি নাম কাটিয়েছেন। অর্থাৎ একটা শুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরি করাটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তার জন্য সবার আগে মৃতদের নাম কাটা উচিৎ। সঙ্গীতশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরও তাঁর নামে ভোট পড়েছে। তাই সঠিক প্রক্রিয়ায় মৃতদের নাম কাটা উচিৎ নির্বাচন কমিশনের।
এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিএলওরা। এই নিয়েও মুখ খুললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি বলেন, ”এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। যারা ডেটা এন্ট্রি জানে না, তাদের ডেটা এন্ট্রি করতে বলা হচ্ছে। এভাবে কারোর উপর চাপসৃষ্টি করা উচিৎ নয়।”