স্কুলে মিড ডে মিলে সপ্তাহে দুদিন ডিম থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশ পালনে বাধ্য স্কুলগুলি।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে প্রোটিন মাস্ট। আর তাই স্কুলে মিড ডে মিলে সপ্তাহে দুদিন ডিম থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশ পালনে বাধ্য স্কুলগুলি। কিন্তু এই শীতের মরসুম শুরুতে মিড ডে মিলে কিভাবে ডিম দেওয়া হবে সে নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন স্কুলগুলি। কারণ ক্রমশই আকাশ ছোঁওয়া হচ্ছে ডিমের দাম। ৭ থেকে বেড়ে এখন ডিমের দাম কেথাও ৮ টাকা আবার কোথাও সাড়ে ৮ টাকা। এই চড়া দামের ডিম কিভাবে কেনা যাবে সেই নিয়ে চিন্তায় রাজ্যে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলি।
পড়ুয়া পিছু মিডডে মিলের বরাদ্দ প্রাথমিকে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ১০ টাকা ১৭ পয়সা। গত অগস্টে প্রাথমিকে মিডডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। আর উচ্চ প্রাথমিকে মিডডে মিলের বরাদ্দ ৯ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ১৭ পয়সা। কিন্তু বর্তমানেও মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে যে বরাদ্দ করা হয়েছে তাতে কিন্তু সমস্যা মিটছে না।

শুধুমাত্র সপ্তাহে যে দুদিন ডিম দেওয়া হয়তা নয়, যেমন দুদিন ডিম দেওয়া হয় তেমনি, এক দিন সোয়াবিন, দু’দিন মরসুমি আনাজের তরকারি, এক দিন আলুর তরকারি, আনাজ দিয়ে ডাল
রাখার কথাও মেনুতে আছে। ছ’দিনই ডাল রাখার কথা বলা হয়েছে মিড-ডে মিলের মেনুতে। শিক্ষকেরা একাংশের বক্তব্য, শীতে শুধু ডিমের দামই বাড়ছে তাই নয়।শীতে আনাজের দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকে । যেমন, কেজি প্রতি টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, ক্যাপসিকাম ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা। একএকটি ফুলকপি ২০-২৫ টাকা। এই সামান্য বরাদ্দে ডিম ও অন্যান্য আনাজ ও তরকারির খরচই বা কী ভাবে সামলাব? তাই মিড-ডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তুলছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি।

মিডডে মিলের বরাদ্দে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ, রাজ্য ৪০ শতাংশ দেয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে বারবার কেন্দ্রের কাছে ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর আবেন করা হলেও তা বাজারদর অনুযায়ী বাড়েনি বলেই দাবি শিক্ষা দপ্তরের এক কর্তার। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলির অনেকের দাবি ইন্দ্র যখন ভারত চেনা রাজ্যকে তখন ভাবতে হবে বেশকিছু রাজ্যই কেন্দ্রের অপেক্ষা না করে নিজেরাই মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়িয়েছে তেমনি এর রাজ্য সরকার ও মিড ডে মিলের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করুক বলেই দাবি তাঁদের।