“পরাজয়ের পর সংসদে এসে পাগলামি করবেন না”, নতুন সাংসদদের সুযোগ দিন, বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতে সংসদে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “একদিকে মজবুত গণতন্ত্র এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের অর্থতন্ত্রকে মজবুত হতে দেখছে গোটা বিশ্ব। ভারত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, গণতন্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। ভারতের আর্থিক গতি যে হারে নতুন উচ্চতায় উঠছে, বিকসিত ভারতের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের মনে নতুন বিশ্বাস এবং নতুন শক্তি জাগাচ্ছে।”
”নাটক নয়, পরিষেবা দিতে হবে”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতে বলেন, ”বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশন। বিরোধীরা পরাজয়ের হতাশা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসুন এবং মজবুত পদক্ষেপ করুন। সুতরাং এই অধিবেশন পরাজয়ের হতাশা বা জয়ের অহঙ্কারের ময়দান হতে পারে না। নতুন প্রজন্মের সংসদ সদস্যরাও এর থেকে শিক্ষা নেবেন। এখানে নাটক নয় পরিষেবা দিতে হবে। রাষ্ট্রনীতির উপর আলোচনা হওয়া উচিৎ।”
বিরোধীদের পরাজয়ে নরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষ
মোদী বলেন, সংসদ ভবনে শ্লোগানবাজি, ব্যক্তিগত হামলা করার বদলে নীতিগত চর্চা এবং জনতার স্বার্থে কাজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়বস্ত নিয়ে আলোচনা করা উচিৎ।
”বিরোধীদের টিপস দিতে পারি”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, ”ওদেরকে স্ট্র্যাটেজি বদলাতে হবে। ওদের কীরকম পারফর্ম করতে হবে, সেই সম্পর্কে চাইলে আমি টিপস দিতে পারি। ”
” নেতিবাচক বিষয় ছেড়ে দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে”
বিরোধীদের নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ” রাজনীতিতে নেতিবাচক বিষয়ের কোনও উপকারিতা নেই। রাষ্ট্রের নির্মাণের জন্য ইতিবাচক চিন্তাধারার প্রয়োজন। সুতরাং নেতিবাচক বিষয়কে স্থগিত রেখে আমরা রাষ্ট্রনির্মাণের দিকে নিজেরা মন দিই।”

”কিছু দল সংসদটাকে নিজেদের রাজনীতির মঞ্চ ভেবে নিয়েছেন”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন ”পুরনো অধিবেশনগুলিতে নজর রাখলে দেখা যাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সংসদের ব্যবহার করা হচ্ছে। পরাজয়ের পর নিজেদের হতাশা বের করার জন্য একে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিছু রাজ্যে তো ক্ষমতায় আসার পর নেতারা শাসকবিরোধী ঝড় তোলা হয়, যাতে তারা জনতার সামনে না আসতে পারেন। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ সদনে করছেন সদস্যরা। কোনও কোনও সাংসদ তো নিজেদের রাজ্যস্তরীয় রাজনীতির মঞ্চ বানিয়ে নেন সংসদকে। যা কার্যত পরম্পরা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
”নতুন সাংসদদের বলতে দিন”
নতুন সাংসদ এবং ছোট দলগুলিকে নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ”আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা এই যে, যেসব সাংসদ নতুন নির্বাচিত হয়েছেন, ছোটখাটো দলের সাংসদরাও খুব বিরক্ত। নিজেদের অঞ্চলের সমস্যা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না তাঁরা। রাষ্ট্রের উন্নয়নের অংশ হতে চেয়ে সংসদের সামনে কিছু বলতে চান। কিন্তু তাদেরকেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। যেকোনও দল হোক না কেন, নতুন প্রজন্মের সাংসদদের বলার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। এই সদনের মাধ্যমেই তাঁরা নতুন দৃষ্টিকোন খুঁজে পান। আমাদের আরও দায়িত্ববান হতে হবে। সংসদভবন নাটকের জায়গা নয়, বরং এটি কাজের জায়গা।”
”পরাজয়ের হতাশা থেকে বাইরে বেরিয়ে আসুন”
প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, ” দুঃখের বিষয় হল এই যে, কিছু দল তো নিজেদের পরাজয়কেও হজম করতে পারেন না। আমি ভাবছিলাম, বিহারের ভোটের ফলপ্রকাশের এতটা সময় পেরিয়ে গেল, এখন হয়তো নিজেদের সামলে নিয়েছেন পরাজিতরা। কিন্তু ওদের কথাবার্তা শুনে মনে হল পরাজিত হওয়ার পর থেকে এখনও বিরক্ত তাঁরা। এই অধিবেশন, সংসদ দেশের জন্য কী ভাবছে, সংসদ দেশকে নিয়ে কী করতে চায়, সংসদ দেশের জন্য ভবিষ্যতে কী করবে, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিৎ। বিরোধীরাও নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন। আলোচনায় মজবুত বিষয়গুলিতে উত্থাপন করুন। পরাজয়ের হতাশার বাইরে বেরিয়ে আসুন। ”
”বিহারের গণতন্ত্র শক্তি জুগিয়েছে ”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ”বিহারের সম্প্রতি ভোটদানের হার রেকর্ড করেছে। গণতন্ত্রই হল সবচেয়ে বড় শক্তি। মা-বোনেরা আরও বেশি করে অংশগ্রহণ করছে। যা যথেষ্ট আশা জাগাচ্ছে। এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে অর্থব্যবস্থাকে মজবুত করার ফলে গোটা বিশ্বের নজরে রয়েছে আমাদের দেশ। ভারত এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, গণতন্ত্র দেশকে ফলাফল দিতে পারে। ”