অতীতের রেকর্ড ভাঙবে এবারের শীত। নিম্নমুখী কলকাতায় তাপমাত্রার পারদ

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা: খাতায় কলমে ডিসেম্বর মাস। কিন্তু এখনও জাঁকিয়ে পড়েনি ঠান্ডা। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বেশকিছু রাজ্যে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টায় জাঁকিয়ে শীত পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এবারের শীত অন্যবারের শীতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঠান্ডা পড়ার মূলে রয়েছে ‘লা নিনা বলে মত আবহাওয়াবিদদের। ছোটবেলায় পাঠ্যবইতে পড়া ছয় ঋতু – দেখা আজকাল আর কোথায় দেখা যায়। বছর ভর গ্রীষ্ম, বর্ষা আর কিছুটা শীতেই মানিয়ে নিতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার চরম খামখেয়ালিপনায় অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় প্রাণী ও জীবকুলকে। কখনও প্রচণ্ড গরম আবার কখনও দেরিতে ঘটে বর্ষার আগমন, দেরিতে বর্ষার আগমন ঘটে তার বিদায়ের নাম থাকে না। অতি বৃষ্টি অতি গরম রাজ্যবাসী অনুভব করেছে এবার অতি ঠান্ডার কবলে পড়তে চলেছে কলকাতাবাসী তথা রাজ্যবাসী। আর এই ভয়ঙ্কর ঠান্ডার কবলে পড়ার কারণ লা নিনা বলে মত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের।  

 নিয়মমত বর্ষাকাল বিদায় নেবার কথা অগস্টেই। কিন্তু এবারদেখা গেল সেপ্টেম্বরের শেষেও বৃষ্টি। এমনকি অতি বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মেলেনি শহরবাসীর। অতিবৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বান ও ধসে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের মতো পাহাড়ি রাজ্যগুলি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এমন কি পুজোর আগেই ভয়ঙ্কর বৃষ্টিতে নাজেহাল হতে হয়েছে কলকাতাবাসীকে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ। অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। গরম ও বৃষ্টির সঙ্গে মোকাবিলা করার পর এবার লাড়াই করতে হবে শীতের সঙ্গে বলে মত  আবহাওয়াবিদের। এবার ভয়ঙ্কর রকমের ঠান্ডা পড়তে পারে রাজ্য তথা কলকাতায় বলে মত আবহ বিশেষজ্ঞদের। 

মৌসম ভবন এবং মার্কিন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা পড়তে চলেছে দেশে। বিশেষ করে উত্তর ভারতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে মত আবহাওয়াবিদদের ।

এখন প্রশ্ন এই লা নিনা কি?

লা নিনা শব্দটি স্প্যানিশ, যার অর্থ ‘ছোট্ট মেয়ে’। আসলে এটি  এক ধরনের জলবায়ুগত অবস্থা। আবহাওয়াবিদোর মতে প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল অস্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়ে গেলে তাকে বলা হয় লা নিনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অতিবৃষ্টি বা ভয়ঙ্কর শীত দেখা দেয়। বিপরীতে, ওই মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে গেলে তাকে বলা হয় এল নিনো, যা খরা, অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ ডেকে আনে। তবে এবার লা নিনা জাঁকিয়ে শীতের পরিবেশ তৈরি করছে। এই লা নিনা- র কারণে  এবার শীগে শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাত বেড়ে যেতে পারে বলেও মত আবহাওয়াবিদদের। গত বছরও লা নিনার প্রভাবে দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের সমতলে টানা ১৭ দিন একসঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আবহবিদদের আশঙ্কা, চলতি বছর সেই অভিজ্ঞতা আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে।

চলতি বছর নভেম্বর মাস পড়তে না পড়তেই শীতের আমেজ অনুভব করতে শুরু করেন রাজ্যবাসী। তবে তবে এই শীতের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ঘূর্ণিঝড়।  ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিনত হয়। এই নিম্নচাপের জেরে শীত থমক যায়।  কিন্ত নিম্নচাপ কাটতে না কাটতেই আবার তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। এবার জাঁকিয়ে শীত পড়ার পথে আবহাওয়া।