প্রতিবাদের পুরষ্কার চার্জশিট! আদালতে জামিন নিলেন কিঞ্জলরা

আরজিকর কাণ্ডে প্রায় একটা গোটা বছর ধরে যারা সামনের সারিতে থেকে লড়াই করে গিয়েছিলেন এবার তাদের বিরুদ্ধেই নাকি পুলিশের তরফে চার্জশিট জমা দেওয়া হল!

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: চিকিৎসক সমাজ একজোট হলে কি হতে পারে আরজিকর আবহ তা দেখিয়ে দিয়েছিল। একের পর এক কার্যক্রম। কখনও রাতজাগো কর্মসুচি আবার কখনও লালবাজার অভিযান। রাজপথ শুধু নয় গোটা দেশ ব্যপী এই আন্দোলন দেখেছে গোটা বিশ্ব। রীতিমতো আদালতের দ্বারস্ত হয়ে জামিন নিতে হল চিকিৎসকদের। তারা ফের প্রশ্ন তুলছেন প্রতিবাদ করলে কি এভাবেই আইনি হেনস্থার শিকার হতে হবে?

ঠিক কি ঘটেছে?

আরজি কর আন্দোলনের সময়ে অভয়ার জন্য বিচার চেয়ে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সংস্কারের দাবিতে চিকিৎসকদের একাংশ ধর্নায় বসেছিলেন। লাগাতার অনশনও করেছিলেন। সে সময়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তারা পুলিশের একাধিক কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সংক্রান্ত মামলাতেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। আন্দোলনকারী সেই জুনিয়র এবং সিনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রীতিমতো চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিটে পুলিশ যাঁদের নাম নিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন-আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার, কিঞ্জল নন্দ, অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায় রয়েছেন চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীও।

বৃহস্পতিবার মোট ১১ জন ব্যাঙ্কশাল আদালতে যান এবং জামিনের আবেদন করেন। তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কি বলছেন চিকিৎসকেরা?  ব্যাঙ্কশাল আদালতে চিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইয়াসিন রহমান। তিনি জানিয়েছেন চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলনে সরকার ঘাবড়ে যায় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করে। তাই ডাক্তারেরা স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে আদালতে হাজির হলেন এবং জামিন নিলেন। এই সংক্রান্ত মামলা লড়ে জিততে চান তাঁরা

আইনজীবীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন কোনভাবেই চিকিৎসকদের কন্ঠরোধ করা যাবে না আর তাই যারা সেই সময়ে চিকিৎসকদের পাশে ছিলেন আগামীতেও একই ভাবে থাকবেন অন্যদিকে চিকিৎসকরাও ভীত নন তাদের যতই হেনস্থা করা হোক না কেন তারা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে অভয়ার ন্যায় বিচার চেয়ে যে লড়াই শুরুন করেছিলেন তা তারা অক্ষুণ্ণ রাখবেন।

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এর আগেই এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছিল। তবে এখনও সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ এক ছাতার তলায় এসে আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে এদের পাশে থাকছে।