জমজমাট ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড!

পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের কর্মসূচী

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ব্রিগেড পারেড গ্রাউন্ডে ‘পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের কর্মসূচী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’।গীতা পাঠ করতে রাস্তায় নেমেছে কাতারে কাতারে মানুষ। ব্রিগেডে তিনটি মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছে। মূল মঞ্চে উপস্থিত প্রায় দেড়শো জন সাধুসন্ত। বাকি মঞ্চগুলিতে অন্যান্য সাধুসন্তরা উপস্থিত।বলা ভালো জমজমাট ব্রিগেড চত্বর।গীতাপাঠের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দলের প্রাক্তন দুই সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষও সহ উপস্থিত হয়েছেন বিজেপির আরও দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় এবং রাহুল সিংহ। রয়েছেন বিজেপির আরও অনেক নেতা। এবছর গীতার ৫হাজার ১২৬তম জন্মজয়ন্তী বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য ২৫টি প্রবেশ পথ রয়েছে এবং এবছর প্রবেশ অবাধ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোন নাম নথিভুক্তকরণের প্রযোজন নেই। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেকে।

অসম , ত্রিপুরা, দিল্লি, বিহার, ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে মানুষজন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়াও নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও কিছু অতিথি ও গীতাপ্রেমীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মেনে করা হয়। এর সঙ্গে কোনও রাজনীতির সম্পর্ক নেই বলেও আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিপুল জনসমাগমকে মাথায় রেখে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রেল। শিয়ালদহ এবং হাওড়া শাখায় রবিবার মোট ২০টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। শিয়ালদহ-শাখার মধ্যে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিং থেকে বিশেষ ইএমইউ ট্রেনের ব্যবস্থা। হাওড়া শাখার জন্যও ৬টি বিশেষ ট্রেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের দায়িত্বে মহামণ্ডলেশ্বর স্বামী জ্ঞানানন্দ জি মহারাজ, প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হন পদ্মভূষণ সাধ্বী ঋতম্ভরা। বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী এবং যোগগুরু বাবা রামদেবও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হিন্দুদের আধ্যাত্মিক জাগরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রচার।

গীতাপাঠের আগে বেদপাঠ এবং কীর্তনের অনুষ্ঠান হয়। ১২টা নাগাদ গীতাপাঠ শুরু হয়। প্রাথমিক খবর ছিল, রবিবারের কর্মসূচীতে গীতার প্রথম, তৃতীয় এবং অষ্টম অধ্যায় পাঠ করার কথা। সভাস্থলে পৌঁছন বহু মানুষ।বছর দুয়েক আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও ব্রিগেডে গীতাপাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। সে বার ছিল এক লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা। আর এবার তা ৫ লক্ষ্যে।