নয়া বিতর্কে এসএসসি নিয়োগ নিয়োগ প্রক্রিয়া! হাইকোর্টে নয়া মোড়

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক। নতুন পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে অভিযোগ—২০১৬ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে যারা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি, তাঁদের কেন অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, তারও সঠিক ব্যাখ্যা চায় মামলাকারীরা। এই দাবিকে কেন্দ্র করে বুধবার হাইকোর্টে উত্তপ্ত সওয়াল–জবাব।

মামলার শুনানি চলাকালীন জানা যায়, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই তৃতীয় কাউন্সেলিংয়ের পর নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং বর্তমানে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগ্য কর্মী হিসেবে কর্মরত। অভিযোগকারীদের দাবি—তৃতীয় কাউন্সেলিংয়ের পরের নিয়োগ বেআইনি, সেই কারণেই এই নিয়োগপ্রাপ্তদের বক্তব্য না শুনে আদালত যেন কোনও নির্দেশ না দেয়। ফলে, ওই নিয়োগপ্রাপ্তরাই আদালতের কাছে পৃথকভাবে আবেদন জানান মামলায় যুক্ত হওয়ার জন্য।

বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই আবেদন গ্রহণ করেন এবং তাঁদের মামলায় যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেন।

যোগ্য শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অনেক আবেদনকারী চাকরি পেয়েছেন। তাই প্রথমে ঠিক কোন প্যানেলটি ‘বৈধ’ হিসেবে গণ্য হবে, সেটি নির্ধারিত হওয়া জরুরি। তার বক্তব্য থার্ড কাউন্সেলিং পর নিয়োগ প্রাপ্তরা সবাই অযোগ্য নয় ।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান ,থার্ড কাউন্সেলিং এর পর থেকে আমরা লিস্ট দিচ্ছি।প্যানেল একস্পায়ার করেছে 2019 আর ডিসেম্বরে।

জজ: আপনারা কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করছেন না? বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন এই কেসে আবেদনকারী কর্মরত। তিনি যোগ্য।

কমিশনের পক্ষ থেকে সেই তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে—তালিকাটি সিল করা খামে হাইকোর্টে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

সব পক্ষকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৩ জানুয়ারি। ওই দিনই মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশসহ সম্পর্কিত নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডির প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সমস্ত শিক্ষক দাগি বলে চিহ্নিত নয় তারা নিয়মিত স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারবেন। একজনও দাগি শিক্ষক যাতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে না পারে সেদিকেও নজর রাখবে এসএসসি। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও দশ নম্বর দেওয়া নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যা বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন।