CBI-র FIR- এ নাম অনিল আম্বানির ছেলের!

Union Bank of India-র ২২৮.০৬ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ!

সূচনা পোলে, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দেশের কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় ঝড়- প্রথমবারের মত জালিয়াতির মামলায় নাম উঠল অনিল আম্বানির ছেলে, জয় আনমোল আম্বানির। সিবিআই রেজিস্টার করেছে ফৌজদারি মামলা-অভিযোগ Reliance Home Finance Limited-এর অর্থ জালিয়াতি, ঋণের টাকা নিয়ম ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার। Union Bank of India-র ২২৮.০৬ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ। ব্যবসায়িক দুনিয়ায় প্রশ্ন- আম্বানি পরিবারের নতুন সঙ্কট কি আরও গভীর হতে চলেছে? কেই বা এই আনমোল আম্বানি?

আনমোল আম্বানি অনিল ও টিনা আম্বানির জ্যেষ্ঠ পুত্র, যিনি খুব অল্প বয়স থেকেই রিলায়েন্স গ্রুপের ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। ক্যাথেড্রাল অ্যান্ড জন কনন স্কুল ও যুক্তরাজ্যের সেভেন ওকস স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রিলায়েন্স ক্যাপিটালে ট্রেনি হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স নিপ্পন লাইফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্সের বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে রিলায়েন্সের শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। সুবিধাভোগী পরিবারের সন্তান হলেও অধ্যবসায় ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে তিনি নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। এখন তার বয়স ৩৪ বছর।

CBI-র FIR- এ নাম-জয় আনমোল অনিল আম্বানি RHFL সাবেক CEO ও Whole-Time Director রবীন্দ্র সুধালকর এবং অজানা আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও অজানা সরকারি কর্মচারী। অভিযোগ- RHFL ও Reliance Commercial Finance Limited (RCFL) Union Bank থেকে General Purpose Corporate Loan নিয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা ব্যবসার নির্দিষ্ট খাতে ব্যবহার না করে, নিয়ম ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয় অন্যত্র। Union Bank সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছে- শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে, ভুয়ো তথ্য দেওয়া হয়েছে, আর্থিক প্রতারণা হয়েছে।

অভিযোগের সময় জয় আনমোল ছিলেন RHFL–এর Executive Director। CBI–র দাবি- তিনি এবং অন্যান্য পরিচালকরা ব্যাংককে ভুল তথ্য দিয়েছেন। Loan utilisation রিপোর্টে অসঙ্গতি, repayment কাঠামো লুকানো- এসবই Fraud-এর আওতায় পড়েছে। এবারই প্রথম, কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি ফৌজদারি তদন্তে সরাসরি নাম তুলল জয় আনমোলের। IPC 420 (Cheating), 120B (Criminal Conspiracy) এবং Prevention of Corruption Act- এসব ধারায় মামলা চলছে। ব্যাংকের সন্দেহ বাড়ে ২০১৯ সালে। RHFL-এর অ্যাকাউন্ট ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯-এ NPA ঘোষণা হয়। এক বছর পরে, ১০ অক্টোবর ২০২৪-এ অ্যাকাউন্ট ‘Fraud’ হিসেবে ট্যাগ করা হয়। এরপর ব্যাংক ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ দেয়। অডিট চলে-১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত। রিপোর্ট জমা পড়ে- ৬ মে ২০২০ সাল। অডিটে পাওয়া যায়- ধারাবাহিকভাবে ঋণের টাকা ভুলভাবে ব্যবহার, তহবিল অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার, Paper companies-এ Loan Routing, আর্থিক হিসাব গোপন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শুরু হয় CBI তদন্ত। মুম্বইয়ের CBI বিশেষ আদালতের অনুমতি নিয়ে এজেন্সি তল্লাশি চালায় RHFL-এর অফিসে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের স্থানে। মিলেছে বহু নথিপত্র, লেনদেনের ডাটা, ইমেল কমিউনিকেশন- যা এখন তদন্তের মূল হাতিয়ার। CBI জানিয়েছে-“একটি বড়সড় আর্থিক প্রতারণার চক্র উন্মোচিত হতে পারে।” অনিল আম্বানি- নেতৃত্বাধীন ADA Group গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক তদন্তের মুখে।

জুন ২০২৫ সালে SBI, Reliance Communications ও অনিল আম্বানিকে “Fraud” ট্যাগ করে পরিমাণ- ৪০,০০০ কোটি টাকা। আগস্ট ২০২৪ সালে SEBI—RHFL- এর নামে ৫,০০০ কোটি টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ পাঁচ বছরের জন্য বাজার নিষেধাজ্ঞা। ২০২৫ সালে ১৭,০০০ কোটি টাকার Loan Fraud মামলায় ED তলব করে অনিল আম্বানিকে। আগস্ট ও নভেম্বর দুবার এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শুরু হয় CBI তদন্ত। এরই পাশাপাশি- Reliance Communications- দেউলিয়া, Reliance Capital- NCLT-তে Reliance Infrastructure- Insolvency Proceedings, RHFL- RBI-র জরিমানা সব মিলিয়ে- গ্রুপের আর্থিক সঙ্কট চূড়ান্ত। মাত্র কয়েক দিন আগেই ED বাজেয়াপ্ত করেছে- ১,১২০ কোটি টাকার নতুন সম্পত্তি এর আগে জব্দ হয়েছিল ১,৪০০ কোটি টাকা মোট জব্দকৃত সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০,১১৭ কোটি টাকা। বহু মামলায় একসঙ্গে চলছে তদন্ত। CBI বলছে- তদন্ত আরও বিস্তৃত হবে- Loan Files, Internal approvals, Borrower statements, Fund trail, Digital evidence।

কোম্পানির কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে। AMBGROUP এখনো এ বিষয়ে কোনো বিশদ বিবৃতি দেয়নি—শুধু বলেছে, “No comments at this stage.” এদিকে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি মামলাই নয়, Anil Ambani Group-এর ভবিষ্যতের ওপর বড়সড় আঘাত। CBI–র তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে প্রথমবারের মতো অনিল আম্বানির ছেলের নাম জড়িয়ে যাওয়া- ভারতের কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় আলোচনার কেন্দ্র। ২২৮ কোটি টাকার alleged fraud- এর তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা দেখার অপেক্ষা। দেশের বড় কর্পোরেট গ্রুপগুলির জন্য এটিও একটি বার্তা যে নিয়ম লঙ্ঘন করলে আইন সবসময়ই নিজের পথ খুঁজে নেয়।