কে এই শতদ্রু দত্ত?

কেরিয়ারের শেষলগ্নে রয়েছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। সেই সময় দেশে আসলেন তিনি। গতকাল রাতেই কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। শনিবার ঘন্টাখানেক থেকেই হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কলকাতা ছেড়েছেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামে মাত্র কয়েকমিনিট থেকেই বেরিয়ে যান মেসি। আর তাতেই ক্ষুব্ধ জনতা। আসলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। সূচি অনুযায়ী মাঠে কয়েকঘন্টা থাকার কথা ছিল তাঁর। সেই কারণে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিটও কিনেছিলেন অনেকে। তবে কয়েক ঝলক দেখা গিয়েছিল তাঁর। মেসি মাঠ ছাড়ার পরেই তাণ্ডবলীলা চলে স্টেডিয়াম চত্বরে।
শনিবারের ঘটনার পর থেকেই খবরের শিরোনামে শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta)। মেসির ইন্ডিয়া ট্যুরের অন্যতম প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই শতদ্রু দত্তের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। মেসি বিমানে ওঠার পর মুহূর্তেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁকে। তাঁর গ্রেফতারির পরেই রাজ্য সরকার থেকে এআইএফএফ সকলের নিশানাতেই এই শতদ্রু। কিন্তু কে তিনি? তাঁকে নিয়ে এত আলোচনাই বা কেন?
আসলে শতদ্রু একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রধান। সংস্থার নাম, ‘আ শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ’। তিনি হুগলি জেলার রিষড়ার বাসিন্দা। কেরিয়ারের শুরুতে ফিনান্স ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজ শুরু করতেন তিনি। তবে খেলা, বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকার কারণেই চাকরি ছেড়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা খোলেন। এই সংস্থা দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্কৃতির মেলবন্ধন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। পেলে, মারাদোনা ও কাফুকে এদেশে এনেছিলেন তিনি। এমনকী গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জেতার পর গোলকিপার এমি মার্টিনেজকে এনেছিলেন এই শতদ্রু। তবে মেসি সফরে এই বিশৃঙ্খলা ছড়াবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি শতদ্রু।
গত একমাস থেকে গোট ইভেন্টের পোস্টারে ছয়লাপ হয়েছিল গোটা শহর। যদিও মার্টিনেজ আসার পর থেকেই মেসিকে আনার পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন শতদ্রু। একটি পডকাস্টে সে জানান, মার্টিনেজ এসে পুরো ইভেন্ট দেখে আপ্লুত হয়েছিলেন। সেখান থেকেই মেসির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় তাঁর। মেসি কার্যত শতদ্রুর ভরসাতেই শহরে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে যা হল তা আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত অসম্মানের।
এদিকে মেসি আসার আগে কলকাতায় রোনাল্ডোকে আনার চেষ্টা করেছিলেন শতদ্রু। কিন্তু করোনার কারণে সেই সফর বাস্তবরূপ দেখেনি। যদিও শতদ্রুর ইচ্ছা ছিল মেসি সফরের পরেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে কলকাতায় নিয়ে আসার। কিন্তু শতদ্রু গ্রেফতার হওয়ার কারণে সেই স্বপ্ন আপাতত বিশ বাও জলে। এদিকে শতদ্রুই কী মূল অভিযুক্ত নাকি নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য কেউ বা কারা তাঁর গলা হাড়িকাঠে দিল সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।