Aroop Biswas: যুবভারতী কাণ্ডের পর ইস্তফা দিলেন অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রীর চোখরাঙানিতে কি এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রীমশাইয়ের?

ইস্তফা দিলেন অরূপ বিশ্বাস

যুবভারতীতে মেসি বিশৃঙ্খলার ৪৮ ঘন্টা পর নবান্নে বৈঠকের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। লিওনেল মেসির সফর ঘিরে গত শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কেলেঙ্কারি। যদিও নীল-সাদা জার্সিধারী মেসি ভক্তদের চার্জশিটে প্রথম অপরাধী হন  উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত, তা হলে দ্বিতীয় নামটি অবশ্যই ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যদিও তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আস্থাভাজন’ হিসাবেই পরিচিত। যুবভারতীতে মেসি ছিলেন মেরেকেটে ১৬ থেকে ১৮ মিনিট। সেই সময়ের মধ্যেই অরূপ জনতার কাঠগড়ায়। দিন যত গড়িয়েছে, ততই মোবাইলে মোবাইলে ঘুরতে শুরু করে মেসির গায়ে লেপ্টে-থাকা অরূপের ছবি। যুবভারতীর ঘটনার পর যথেষ্ট চাপেই ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

সোমবার নবান্নে পরপর দুটি সরকারি বৈঠক চলে। জানা যায় প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে হাজির হন অরূপ বিশ্বাস। দ্বিতীয়টিতে ছিলেন একেবারেই গোড়া থেকে। সূত্র মারফত জানা যায়, জোড়া বৈঠকে অরূপের সঙ্গে আলাদা করে কোনও কথা হয়নি মমতার। সরাসরি তাঁকে উদ্দেশ্য করে মমতা কিছু বলেনওনি। অরূপ চুপচাপ ছিলেন দুই বৈঠকেই। এমন আবহের মাঝে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বোমা পড়ার মতোই সামনে আসে এক খবর। কী সেই খবর। অরূপ বিশ্বাস নাকি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। 

ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিও সামনে আসে। চিঠিতে লেখা, “আমার প্রণাম নেবেন।  গত ১৩ই ডিসেম্বর কিংবদন্তী ফুটবলার মেসির কলকাতা সফরে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনি ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়ামন্ত্রী হিসাবে আপনার কাছে অব্যহতি চাইছি। আশা করি আপনি আমার এই অনুরোধ রাখবেন”। চিঠির তলায় লেখা শ্রদ্বার্থে। এখানেই দানা বাঁধছে রহস্য। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস চিঠিতে এতকিছু লিখলেন, কিন্তু নিচে নিজের নামটা লিখলেন না কেন। শ্রদ্ধার্থের পরে নামের জায়গাটা ফাঁকা রয়ে গেল কেন ?

যখন এসব জল্পনা তুঙ্গে। সেইসময় তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ফেসবুক ওয়ালে আসে এক পোস্ট।  যেখানে এই চিঠিটা পোস্ট করা হয়। আর ক্যাপশনে লেখা  , ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা। নেত্রীকে চিঠি লিখে অব্যাহতি চাইলেন। তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, রাজধর্ম পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার। যদি ইস্তফা নয়, পদত্যাগ করতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে।  দাবি করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। ফলে অরূপের এই ইস্তফা-চিঠির নেপথ্যে বিরোধীদের চাপও কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ অরূপকে পদে রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে কী করে, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিরোধী শিবির এবং বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে অরুপের দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে শোকজ করা হয়। তাঁর দফতরের অধীনেই পড়ে যুবভারতী। তাই অরূপের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের দাবি উঠছিল লাগাতার। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই এদিন মমতাকে চিঠি দিয়ে ইস্তফার ইচ্ছে প্রকাশ অরূপের। যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডের জেরে মমতা সরকার ইতিমধ্যেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই প্রশ্নের অবকাশ যাতে না থাকে, সেই কারণেই অরূপ ইস্তফার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।