দার্জিলিং নয়, শৈলশহরের আমেজ কলকাতায় !

Kolkata records coldest January days in years: ১০-এ নামল কলকাতার পারদ। হাড় কাঁপানো শীতের অনুভব করা যাচ্ছে মহানগর সহ বাংলায়। বঙ্গজুড়ে কাঁপুনি ধরাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। সকাল থেকে রাত। ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে ফিরে এসেছে জাঁকিয়ে শীত।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : শৈল শহর দার্জিলিং। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। সেই ঠান্ডার আমেজ নিতে বাঙালির বরাবরেরই পছন্দের ঠিকানা হয় দার্জিলিং। বাঙালির কাছে বড্ড আপন এই শৈলশহর। তবে এবারে আর ছুটতে হবে না দার্জিলিংয়ে। কলকাতাই দিচ্ছে সেই আমেজ। সূর্য মামার দেখা নেই। সেও যেন ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে গিয়েছে। সেও আর বেশি কষ্ট করছে না। সেও শীতঘুমে আচ্ছন্ন। ঘড়ি না দেখলে বুঝতেই পারবেন না বেলা ১১টা নাকি ভোর ৬টা। হাড় কাঁপানো শীতের অনুভব করা যাচ্ছে মহানগর সহ বাংলায়। বঙ্গজুড়ে কাঁপুনি ধরাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। সকাল থেকে রাত। ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে ফিরে এসেছে জাঁকিয়ে শীত। কলকাতা জুড়ে ঘন কুয়াশার দাপট। বলা যেতে পারে মঙ্গলবার কলকাতার তাপমাত্রা একেবারে ১০-এ ১০।

সোমে শীতের ব্যাটিং

কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
যা স্বাভাবিকের থেকে ৬.৭ ডিগ্রি কম

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শহরে আগামী কয়েকদিনে আরও দু ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। এরপরে, তিন-চার দিনে তাপমাত্রার পরিবর্তন হবে না। তবে জমিয়ে শীতের স্পেল থাকবে আরও পাঁচ-সাতদিন।

মঙ্গলে শীতের আমেজ

কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
যা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৭ ডিগ্রি কম

১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই জারি থাকবে শীতের ব্যাটিং। সাম্প্রতিক অতীতে এই রকম শীত দেখেনি কলকাতা। প্রতিবছর শহরবাসীর মনে শীত নিয়ে ক্ষোভের ছায়া দেখা যায়। কারণ নভেম্বরে শীতের সিকি ভাগ অনুভূতি মেলে না। ডিসেম্বরে শীতটা টের পাওয়া গেলেও, তা হয় ক্ষণিকের। জানুয়ারি ঢুকতেই তেজ বাড়ে রোদের। অবশ্য, এই বছর তেমন কিছু হয়নি। উল্টে ভেঙে গিয়েছে গত ১৩ বছরের রেকর্ড। এক কথায়, কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা এবারে। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গ এবং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেও। গত ১৫ বছরের জানুয়ারি মাসে এক বারই ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল কলকাতার পারদ।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এর আগে কবে এইরকম শীতের দাপট দেখেছিল কলকাতা।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে
শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে ছিল ১০.৯ ডিগ্রি
এ বার তা-ও ছাপিয়ে গিয়েছে
২০১২ সালে এক বার ছিল এইরকম তাপমাত্রা
ডিসেম্বর মাসে ১০ ডিগ্রিতে নেমেছিল কলকাতার পারদ
১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে একবার ৭.২ ডিগ্রিতে নেমেছিল

সোমবার বিকালেই বাংলার আট জেলায় কোল্ড অ্যালার্ট জারি করে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিনের মধ্য়ে এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫-৬ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। আরও শক্তি বাড়াতে পারে উত্তুরে হাওয়া, রাতের দিকে বাড়বে কাঁপুনি। সব মিলিয়ে শীত নামবে ফুল পারফর্মেন্সে। বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতে দাপট বাড়াবে শীত। বুধবারও বাঁকুড়া বাদে বাকি জেলাগুলিতে থাকতে পারে ‘শীতলতম দিন। মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঘন কুয়াশারও সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী কয়েক দিন প্রায় সব জেলাতেই ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে কমে যেতে পারে দৃশ্যমানতা। উত্তরবঙ্গেও দুই দিনাজপুর এবং মালদহে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের সব এলাকায় তাপমাত্রা কমে গেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, রাজ্যের সব অঞ্চলই কনকনে ঠান্ডার শিকার। বুধবারের মধ্যে ফের ধীরে ধীরে পারদ নামতে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে শহরের ঠান্ডা আরও জোরালো হবে। অর্থাৎ নতুন সপ্তাহে শীতের কামড় থেকে আপাতত রেহাই নেই বঙ্গবাসীর।