”ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতোই তিন বাহিনী নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবে তৃণমূল। সেনাবাহিনীর মতোই স্থলসেনা, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে সিমলা স্ট্রিটে স্বাগতম যুবরাজ পোস্টার ঘিরে দিনভর উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। সেবিষয়ে তৃণমূল বিশেষ পাত্তা না দিলেও বেলা গড়াতেই সমর্থকদের সেবিষয়ে সতর্ক করে দিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কর্মসূচি মেনে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকীতে স্বামীজির সিমলা স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে স্বামীজিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তারপর মিলন মেলায় তৃণমূলের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের সম্মেলনে যোগ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বামীজিই একমাত্র যুবরাজ। আমি ৩৩ বছর ধরে এখানে আসি। আমার বয়স ৫৫। ওদের নাম মুখেও আনতে চাই না। এরা হিজাব বোরখার লোক। এরা আরবের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়। এদের কথা এখানে বলে আমি অপবিত্র করবো না।“
শুভেন্দুর নাম না করে অভিষেকের প্রশ্ন, “ যে গাড়িতে চড়ে ভাষণ দাও, গাড়ির মেকানিকের ধর্ম কী জিজ্ঞেস করো ? বাজার থেকে মাছ নিয়ে এলে জিজ্ঞেস করো যে কাটল সে হিন্দু না মুসলমান? ঠাকুরের পায়ে যে ফুল অর্পণ করছো, যে সেই ফুল বিক্রি করছে, তার ধর্ম জিজ্ঞেস করো? যে বাড়ি তৈরি করেছে, তার ধর্ম জিজ্ঞেস করো? জল কিনতে গেলে জিজ্ঞেস করো বিক্রেতা হিন্দু না মুসলমান? স্ট্রোক হলে অ্যাম্বুল্যান্স চালককে জিজ্ঞেস করো তার ধর্ম কী? ”
অভিষেকের সতর্কবার্তা- ”বরফ গলে জল হলে মমতা দায়ী, আকাশে মেঘ করলে মমতা দায়ী, পেঁয়াজের আকার ছোট হলেও মমতা দায়ী, হঠাৎ বৃষ্টি হলেও মমতা দায়ী, ঠান্ডা গরম বাড়লে মমতা দায়ী। আমাদের এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না। আমাদের একটু ফাঁক থাকলে বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আগেরবার ২১৪ বলেছি, এবার ২৫০ করতে হবে। ৭০টা এমএমলএ নিয়ে কে চিকেন রোল বিক্রি করবে, কে ফিস ফ্রাই করবে সেটা বিজেপি ঠিক করবে? গীতা পড়েছে এরা কোনওদিন ?
এরপরই অভিষেকের তোপ, “আমরা স্বামীজির হিন্দুত্বে বিশ্বাস করি। যোগী আদিত্যনাথের হিন্দুত্বে নয়। যে স্বামীজি হিন্দু ধর্মের নাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁর হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী আমরা। ১৫ তারিখ থেকে আগামী ৫দিন কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়বেন, তার প্ল্যান রাখতে হবে। ১০০দিন সময় থাকলে এভাবে বারবার প্ল্যান তৈরি করে লড়াই করতে হবে। কোন পোস্টে বিজেপি কর্মীরা পোস্ট করছে, টাকা ছড়াচ্ছে। তাদেরকে বের করে জবাব দিতে হবে। আজ যে উন্মাদনা দেখিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই উন্মাদনা দেখতে চাই।”

অভিষেকের বার্তা, ”ভারতীয় সেনাবাহিনীর মতোই তিন বাহিনী নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবে তৃণমূল। সেনাবাহিনীতে যেমন স্থলসেনা, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা, এই তিন বিভাগ রয়েছে, তৃণমূলেও এই রকম তিন বাহিনী রয়েছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাঁরা লড়াইয়েরা ময়দানে থাকবেন বলে জানিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
তিনি বলেন, ”দলের একাংশ মিছিলে হাঁটেন। জায়গায় জায়গায় দলের ব্যানার-ফেস্টুন। পতাকা বহন করেন। তাঁরাই দলের স্থলসেনা, অর্থাৎ আর্মি। যাঁরা সমাজমাধ্যমে দলের হয়ে প্রচার চালান। লড়াই করেন। তাঁরা আসলে ‘এয়ারফোর্স’ বা বায়ুসেনা। দলের যে সদস্যরা সংসদ বা বিধানসভায় যারা মানুষের কথা বলেন। মানুষের পাশে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়েন। তাঁরা নেভি বা নৌসেনা।”