আইপ্যাককাণ্ড: ইডির বিরুদ্ধে সবকটি মামলায় স্থগিতাদেশ সুপ্রিমকোর্টের

“যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে কি শুধুমাত্র এটা দলের কাজ এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?”

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : আইপ্যাককাণ্ডে বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এবং শেক্সপিয়ার সরণি থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যে কটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে,  সবকটি মামলায় স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই তো স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিসিটিভি সংরক্ষণ করা ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে বলেও নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণ- “কোনও তদন্তকারী সংস্থা কোন রাজনৈতিক দলের অফিসে এইভাবে তল্লাশি অভিযান চালাতে পারে না। যেকোনো তদন্তকারী সংস্থাকে তাদের স্বতন্ত্র বজায় রাখতে হবে। সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা যদি যুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই সেই স্বতন্ত্র বজায় রাখা সম্ভব হয় না।”

সুপ্রিমকোর্টের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ”ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।  তাই তাঁরা আদালতের রক্ষাকবচ চাইছেন।”

ইডির আইনজীবী এমভি রাজু বলেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে আদালত এই সিদ্ধান্তেও আসতে পারে যে- শুধু সিবিআই তদন্তই প্রয়োজন নয়।  বরং সেই তদন্ত রাজ্যের বাইরে থেকে করা দরকার। এমন অনেক নির্দেশ এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে মোট ৪টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।”

  শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ”আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি সৎ উদ্দেশ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না।   ইডির যে তল্লাশি অভিযান হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর  দায়ের করা হচ্ছে তা ওদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্যই।”

 এই মামলায় একটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই প্রশ্নটি হল—ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না?  এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারা খতিয়ে দেখা জরুরি”

শুনানির পর  মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।  ২ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে তাদের।  

*  এই সময়ের মধ্যে ওই স্থানে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

*   পুলিশ যে সব এফআইআর দায়ের করেছে তার উপর অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ থাকবে।

*  পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভির আবেদন- “তদন্তে স্থগিতাদেশ দেবেন না। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে না এমন নির্দেশ দিতে পারেন।“

 পাল্টা বিচারপতি মিশ্র জানান, “অন্য কোর্ট ১০ মিনিট শুনে নির্দেশ দেয়। আমরা তো আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। নোটিস জারি করতে রাজি হয়েছি।  ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পরবর্তী শুনানি।”

এদিন  সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ,

 *দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সংস্থা যাতে স্বাধীনভাবে নিজের কাজ করতে পারে, তার জন্য এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

*  এটা দেখা দরকার—যাতে কোনও অপরাধী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে রক্ষা না পেয়ে যান।

* এই মামলায় বহু বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। এই প্রশ্নগুলোর যদি মীমাংসা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। দেশের এক বা একাধিক রাজ্যে আইন না মানার অবস্থা তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার চালাচ্ছে।

* এটা ঠিক যেকোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।

* আবার একইসঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে কি শুধুমাত্র এটা দলের কাজ এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?

*  বিচারপতি মিশ্র আরও বলেন, আইনের ধারা ৬৭ অনুযায়ী যদি ইডি অফিসাররা অনুমোদন পত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে, তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।

আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।