মুখ্যমন্ত্রীর বইতেও ‘SIR হেনস্থা’ প্রসঙ্গ

৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক :  ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। বৃহস্পতিবার ৪৯ বার ঘণ্টা বাজিয়ে বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৪৯তম বইমেলা থেকেই ৫০তম বইমেলার ডাক দেওয়া হচ্ছে। বইমেলা হল আমাদের আবেগ, আমাদের সংস্কৃতি। বিশ্বসাহিত্যের বিশ্বমিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই বইমেলা। ভারতের মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। অন্যান্য দেশেও এই বইমেলা জনপ্রিয়। পৃথিবীর প্রাচীনতম এই বইমেলায় আগেরবার ২৭ লক্ষ মানুষ এসেছে। প্রায় ২৩ কোটি টাকার মতো বই বিক্রি হয়েছিল। এবারও সেই গন্ডিও ছাড়িয়ে যাবে। এখানে প্রায় ১১০০ স্টল রয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে বইমেলা। বইমেলায় প্রবেশ অবাধ।”

স্মার্টফোন, এআই, কম্পিউটার হাতে চলে আসায় বইয়ের উপর থেকে ঝোঁক অনেকটাই কমে গিয়েছে নতুন প্রজন্মের। বইমেলার উদ্বোধনে গিয়ে এই নিয়েও মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখন সবাই বইয়ের থেকে অনেক দূরে। এখন হাতে স্মার্টফোন, এআই, কম্পিউটার এসেছে। বইয়ের দিকে ঝোঁক কমছে সকলের। তবে যারা সত্যিকারের বইপ্রেমী, তাদের আগ্রহ মোটেও কমছে না। কোথাও ঘুরতে গেলে আমরা বই লিখি। কম্পিউটারে টাইপ করাটা আমার পোষায়না। যে বইগুলি বেরোয় ওই সমস্ত বই আমি নিজে হাতে লিখি।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানবজাতির উপরে আর কিছু হয় না। বই শিক্ষা দেয়, মনুষ্যত্বের শিক্ষা দেয়।“

 বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেও কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর ইস্যুতে এক হাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা ১৫৩টা বই বেরিয়েছে। এবার আরও ৯টা বই বেরোবে। আমার রাজনৈতিক জীবনের কথাও থাকছে সেই বইতে। আরও বইগুলিতে এসআইআরের জেরে হেনস্থার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। ২০২৬ সালে ২৬টা কবিতা বেরোবে। এসআইআরের উপরেও কবিতা থাকবে। এবার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাটা হবে ১৬২।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “একদিকে এসআইআর চলছে। ১১০জনের মতো মানুষ মারা গেছে। আমরা যেন সেই কথা মনে রাখি। মানুষের হয়রানির কথা যেন মনে রাখি। লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি কোথাও ছিল না। একমাত্র বাংলায় করা হচ্ছে।“

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জগন্নাথ ধাম, দুর্গাঙ্গনের মতো বই তীর্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আইএনসিএ থেকে ১০ কোটি টাকা যাবে। ৫০তম বর্ষে বইপ্রাঙ্গনের সঙ্গে বইতীর্থ করা হবে।“