নেতাজির জন্মবার্ষিকীতে SIR নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দোরগোড়ায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজনৈতিক আক্রমণ না শানালে নয়! তাও যদি আবার হয় এসআইআর প্রসঙ্গে তাহলে তো কোনও কথাই নেই।

“নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলে, তাঁকেও কি শুনানিতে ডাকতেন? ইতিমধ্যে তো নেতাজির পরুবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসুকেও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে।” এরপরই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এসআইআরের শুনানির ডাক পেয়ে আতঙ্কে মানুষ মারা যাচ্ছেন। প্রায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোজ আতঙ্কে তিন-চার জন করে আত্মঘাতী হচ্ছেন। কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না? কেন্দ্রীয় সরকারকে এর দায় নিতে হবে। পার্টির নাম না হয় নাই বা বললাম।’’ অনুষ্ঠানটি যেহেতু রাজ্য সরকারের, মঞ্চ থেকে আক্রমণ শানালেও বিজেপির নাম উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নেতাজির জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রকে একের পর এক নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তিনি বলেন, ‘‘ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। ভাষার প্রতিও অসম্মান করছে। নেতাজি প্ল্যানিং কমিশনকে জেনেবুঝে তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে তৈরি করা হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।’’

এখানেই শেষ নয়, একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নেতাজির জন্মদিনটিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা তাঁর মৃত্যুদিনটাও এখনও জানতে পারিনি।’’
এসআইআর-সহ দেশের পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা কৌরবপক্ষের সঙ্গে লড়াই। মানবিকতা বনাম দানবিকতার লড়াই।’’ এরপরই দিল্লি চলো ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআরের জন্য সাধারণ মানুষকে যারা যন্ত্রণা দিচ্ছে, তাদেরকেও যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘আমার বাড়িতে একটি মেয়ে থাকে, ওর পরিবারের সকলকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠিয়ে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক জানতে চাইছে। বিয়েটাও কি ওরা ঠিক করে দেবে? কে কার সঙ্গে প্রেম করবে, সেটাও ওরা ঠিক করে দিতে চাইছে।’’