‘বিকশিত ভারত’-এ জোর দিতে গিয়ে কি গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করছে কেন্দ্রীয় সরকার ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২০২৬ বাজেট পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ঠিক তখন সরকারের মূল বার্তা স্পষ্ট। তা হল ‘বিকশিত ভারত’। পরিকাঠামোয় বিপুল লগ্নি, ডিজিটাল বেসরকারি পরিকাঠামোর বিস্তার এবং উৎপাদনশীলতাকেন্দ্রিক বৃদ্ধির উপর ভর করেই আগামী অর্থনৈতিক যাত্রাপথ ঠিক করতে চাইছে কেন্দ্র। মধ্যবিত্তের উপরে করছাড় ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য কর ছাড়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বাজার।
এই উন্নয়নের গল্পের আড়ালে যে সংকট ক্রমশ ভারতের অর্থনীতির শ্বাসরোধ করছে, তা হল বায়ুদূষণ।
দীর্ঘদিন ধরেই দূষণকে ‘শীতকালের সমস্যা’ বা দিল্লিকেন্দ্রিক বিপর্যয় বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাস্তবটা আরও কঠিন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর গীতা গোপীনাথ সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—ভারতের অর্থনীতির জন্য বায়ুদূষণ এখন শুল্কযুদ্ধের থেকেও বড় হুমকি।
বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে বায়ুদূষণের ফলে প্রতিবছর ভারতের জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। চিকিৎসা খরচের জেরে পারিবারিক সঞ্চয় কমছে। কর্মশক্তিতে কমছে উৎপাদনশীলতা। আর দূষিত শহরে কাজ করতে অনিচ্ছুক হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারী ও দক্ষ পেশাজীবীরা।

দূষণের প্রেক্ষিতে সরকার যেসব পদক্ষেপ করেছে, তা হল- একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা, নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা, ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা। এতে যেমন দূষণ কমে না, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হন দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা।
এই কারণেই বাজেট ২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান—কারখানায় রিয়েল-টাইম দূষণ নজরদারি ব্যবস্থা, ভারী যানবাহনের বৈদ্যুতিকীকরণে আরও বেশি করে সরকারি সাহায্য করতে হবে। রিসাইক্লিং বা পুনর্নবীকরণ শিল্পেও আরও বেশি করে কর ছাড় দিতে হবে সরকারকে।
এখন প্রশ্ন একটাই—অর্থমন্ত্রী কি দূষণকে শুধুই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সমস্যা হিসেবে দেখবেন, নাকি দেশের আর্থিক ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সংকট হিসেবে দেখবেন? ভারতের অর্থনীতির উড়ান যে পরিষ্কার বাতাস ছাড়া অসম্ভব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।