কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী, SIR-এ সুপ্রিম সওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ” আমি দল নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলছি।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক :  পরনে সাদা শাড়ি, সাদা সোয়েটার, গলা কালো উত্তরীয়। সোমবার থেকেই এসআইআর ইস্যুতে রাজধানীকে কার্যত উত্তপ্ত করে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারও তার অন্যথা হল না। অনেক আগেই সভামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, এসআইআরের বিরুদ্ধে মামলা না হলে তিনি নিজেই সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে সওয়াল করবেন। তিনি বলেছিলেন আইনজীবী হিসেবে না হলেও একজন সাধারণ মানুষ হয়ে সওয়াল করবেন আাদালতে। মঙ্গলবার তেমনটাই করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন মুখ্যমন্ত্রীকে সুপ্রিমকোর্টে দাঁড়িয়ে এইভাবে সওয়াল করতে দেখাটা কার্যত নজিরবিহীন বললেও কম বলা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআরে নাম না থাকলে বৈধ নথি হিসেবে আধার কার্ড দেখানো যাবে বলে জানিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। তারপরও নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন? বাংলাকে অযথা টার্গেট করা হয়েছে। কই এমন কো আসামে করা হয়নি?”

নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে এসআইআরের বিষয়ে একের পর এক পয়েন্ট তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যত শুধুমাত্র নাম কাটার জন্যই করা হচ্ছে। বিয়ের পর ঘরের মেয়েরা শ্বশুরবাড়িতে চলে গেলেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। গরিব মানুষ বাড়ি পাল্টালে তাদের নামও কেটে দেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করা হয়েছে। যে এসআইআর করতে দুবছর সময় লাগে, সেই প্রক্রিয়াকে দুমাসে করতে গিয়ে মানুষকে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে।”

এসআইআর নিয়ে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “আমি দল নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলছি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ রাজ্যে ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওযা হয়েছে। অনেকেই জীবিত রয়েছে। অথচ মাইক্রো অবজার্ভার সেই জীবিত মানুষজনের নাম মুছে দিচ্ছে। আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন।”

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বাংলা বোঝেন, এমন অফিসারকেই যেন তালিকা দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না দেয়। শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় আরও সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।”

মুখ্যমন্ত্রীর মামলায় নোটিস জারি করল সুপ্রিমকোর্ট। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমি ধন্য। মানুষের অধিকার রক্ষা করুন। ”