মেঘালয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ !

মেঘালয়ে অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। অন্তত ১৮জনের মৃত্যু আবারও একগুচ্ছে প্রশ্ন তুলে দিল

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অবৈধ উপায়ে কয়লাখননের মাসুল হিসেবে নিজের প্রাণ খোয়ালেন ১৮জন শ্রমিক।  বৃহস্পতিবার মেঘালয়ের ইস্ট জয়ন্তিয়া হিলসের অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। তাতেই অন্তত ১৮জনের মৃত্যু হয়েছে। খনির ভিতরে এখনও একাধিক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মেঘালয়ের থাংস্কুর এলাকার মাইনসিংগাটের একটি কয়লাখনিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ডিনামাইট বিস্ফোরণের জেরেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। আরও জানা গিয়েছে, খনিটি ব়্যাট  হোল মাইনিং পদ্ধতিতে চালিত হচ্ছিল। ব়্যাট হোল মাইনিংয়ের মাধ্যমে কয়লা উত্তোলনের প্র্রক্রিয়া এক দশকের বেশি সময় ধরে নিষিদ্ধ। তারপরও এধরণের বেআইনি প্রক্রিয়ায় কয়লা উত্তোলন কীভাবে চলতে পারে, প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

উমপ্লেং পুলিশ আউটপোস্ট এলাকায় অবস্থিত ওই খনিতে দুর্ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সংকীর্ণ ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ চলাকালীন হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। পূর্ব জয়ন্তিয়া হিলসের পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যার পর উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়। অন্ধকার, দৃশ্যমানতার অভাব, সুড়ঙ্গের ধসের আশঙ্কা এবং কার্বন মনোক্সাইড ও মিথেন গ্যাস জমে থাকতে পারে. সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত ১৮টি দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পরিস্থিতি অনুকূল হলে আবার উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে।

র‍্যাট-হোল মাইনিং – এটি কয়লা উত্তোলনের অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অ-বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এতে তিন থেকে চার ফুট চওড়া ছোট খাড়া গর্ত খোড়া হয়। কয়লার স্তরে পৌঁছে গেলেই সমান্তরাল সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়। এই সুড়ঙ্গগুলি এতটাই সংকীর্ণ যে, এক জনের বেশি মানুষের পক্ষে প্রবেশ করা কঠিন। কোনও যান্ত্রিক ব্যবস্থা বা কাঠামোগত সুরক্ষা ছাড়াই শ্রমিকেরা হাতে সরঞ্জাম নিয়ে কয়লা উত্তোলন করেন।

এই পদ্ধতিতে প্রায়ই শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কারণ তাদের শারীরিক গঠনের ফলে ওই সংকীর্ণ সুড়ঙ্গে ঢোকাটা অপেক্ষাকৃত সহজ। কর্মসংস্থানের অভাবে বহু পরিবার এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের উপর নির্ভরশীল।

পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জাতীয় পরিবেশ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে মেঘালয়ে র‍্যাট-হোল মাইনিং নিষিদ্ধ করেছিল। পরবর্তীকালে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টও। তারপরও এই অবৈধ খনন কেন আটকানো গেল না, সেটাই তো বড় প্রশ্ন।