শুক্রবার ফের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে আশা কর্মীরা। মাসিক ১৫ হাজার টাকার দাবিতে অনড় বাংলার আশা দিদিরা। শুক্রবার ফের বেগুনি বিক্ষোভ শহর কলকাতায়।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : দিন কয়েক আগে ভোটমুখী বাংলা সাক্ষী থেকেছিল বেগুনি মিছিলের। এবার সেই মিছিলকে মাথায় রেখেই বারানো হয়েছিল আশা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকাদের সাম্মানিকের পরিমাণ। ভোটের আগের শেষ বাজেট ‘কল্পতরু’ হয়ে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। রাজ্য বাজেটে ঘোষনা করা হয় যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের মাসিক সাম্মানিক আরও ১ হাজার টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুধুই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়িকা নয়, সাম্মানিক বাড়ছে আশা কর্মীদেরও। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে আশা কর্মীদের সাম্মানিক ১ হাজার টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্য়ের অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাজ্য়ের অন্য সকল সরকারি কর্মীদের মতোই এপ্রিল মাস থেকে আশা কর্মীরাও ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা পাবেন। কিন্তু আশাদিদিদের ক্ষোভ তাতে এতটুকুও কমেনি। আশাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন বাজেটের পরেই ১৫ হাজার টাকা চাওয়া বাড়তি চাওয়া নয়। ১ হাজার টাকা দেওয়াটা তাঁদের কাছে যেন বাঁ হাতে টাকা ছুঁড়ে দেওয়া। তাঁদের জন্য এটা সম্মানজনক নয়। আশাকর্মীরা এতে ক্ষুব্ধ। মাতৃত্বকালীন ছুটি তাদের আন্দোলনের ফলাফল।আর বাজেটের পরের দিনেই ফের স্বাস্থ্যভবন অভিযানে সামিল হলেন তারা। সকাল থেকেই পুলিশের ব্যারিকেড লক্ষ্য করা গিয়েছিল স্বাস্থ্যভবনের সামনে। একদিকে মাসিক ১৫ হাজার টাকার দাবি এর পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ দাবি নিয়ে শুক্রবার ফের পথে নামেন তারা। কি সেই দাবি? আশা কর্মীদের অভিযোগ, বহু বকেয়া এখনো দেওয়া হয়নি, কর্মবিরতি করার কারণে বিভিন্ন ব্লকে কর্মীদের ভীষণ নির্যাতন ও হয়রান করা হচ্ছে। এছাড়াও ভাগে ভাগে টাকা দেওয়ার সহ আরও কয়েকটি সমস্যা নিয়ে আজ স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দেন তারা।

এখানেই শেষ নয়, আশাকরমীদের রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ শুনুন সেই বিস্ফোরক বক্তব্য।আশাকর্মীরা বলছেন এই যে তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। আর কখনও আন্দোলন না করার মুচলেকা দেওয়ায় তারা কিন্তু এতটুকুও দমে যাচ্ছেন না। তারা তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন গ্রাম বাংলার তৃণমূল স্তরের জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব আশা কর্মীদের কাঁধে থাকলেও, তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে যেন একটু হোঁচট খাচ্ছে প্রশাসন, এমনটাই অভিযোগ তাঁদের। তাদের এই সংগ্রাম এখন কেবল বেতনের জন্য নয়; বরং এখন তাঁদের সংগ্রাম শ্রমের মৌলিক স্বীকৃতি সম্পর্কে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে, প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ আশা কর্মী লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যের যত্ন নেন।কিন্তু তারপরেও বাজেটে যেভাবে এই ১০০০ টাকা বেড়েছে তাতে করে সেটার মধ্যে অপমান ছাড়া কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না আশাকরমীরা। তাই ফের পথে নামা ছাড়া উপায় কিই বা ছিল তাঁদের। আজ বেলা গড়াতেই আশাকরমিদের ভিড় চোখে পড়ে, তারা জানতে চান এই টুকু টাকায় সংসার কিভাবে চলবে? পুলিশ আটাকণর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়ান তারা। পুলিশ স্বাস্থ্য ভবনে আশাকরমীদের প্রবেশে অনর থাকে। কিন্তু আশাকরমীরাও অনড় থাকেন।এরপর স্বাস্থ্য ভবনের কাছে ব্যারিকেড এর সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের। একটু খতিয়ে দেখলে দেখা যায় যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গই এখন বিস্ফোরণের আকার নিচ্ছে। আর এই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে যত সময় গড়াবে আশাদিদিদের হতাশা আরও বাড়বে যা আদতেও রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল নড়িয়ে দেবে না তো? কাজের জায়গায় নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে এইভাবে বারবার আন্দোলনে শামিল হতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তাদের কাজটা নেহাতই সোজা নয়, বেগুনি রঙা শাড়ি, কাঁধে ঝোলা। বাংলার আশা কর্মীরা, পাড়ায় পাড়ায় যারা আশাদিদি নামেই পরিচিত। আর গত ২১ জানুয়ারির পর ৬ই ফেব্রুয়ারি ফের এই আশাদিদিদের নিরাশার জায়গাটা দেখলেন বঙ্গবাসী। কবে সুদিন ফিরবে তাঁদের? জানতে চাইছেন এই দিদিরা, উত্তর যদিও অধরা।