ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতে নয়া দিগন্ত খুলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI.

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit 2026)। বর্তমানে ভারত ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কেবলমাত্র সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তির সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত নয়, বরং ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে এই AI। এটি এখন শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, বরং এক সার্বভৌম ডিজিটাল বিপ্লবের সূচনা। যা ভারতের উন্নয়নের গতিকে নতুন উপায়ে নির্ধারণ করতে চলেছে।
অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এআই নিঃসন্দেহে একটা বিপ্লব হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই ভারতের অর্থনীতিতে প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের সংযোজন করতে পারে। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি আর্থিক উন্নয়নের পূর্বাভাস নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্তিকরণের রূপরেখা। কৃষকদের জন্য এআই-চালিত ফসল ফলনের পূর্বাভাস, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিখুঁত রোগ নির্ণয়—এইধরণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করছে। ১০ হাজার ৩০০ কোটির বেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ উন্নত কম্পিউটিং শক্তিকে রসদ জোগাচ্ছে, ফলে বিশ্বমানের জিপিইউ এখন তুলনামূলক সুলভে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে একদিকে যেমন এআই বিভিন্ন সেক্টরকে শক্তি জোগাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল এই যে – এআই মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে না তো ?
উত্তর হিসেবে বলা যেতে পারে ডেটা এন্ট্রি, প্রাথমিক গ্রাহকসেবা বা কারখানার একঘেঁয়ে কাজের মতো নিয়মভিত্তিক পেশাগুলো সত্যি ঝুঁকির মুখে। তবুও এআই ‘চাকরি বিলুপ্তির মহাপ্রলয়’ ডেকে আনতে পারে, এমন আশঙ্কা এখনও বাস্তবে হানা দেয়নি।
বরং বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ প্রযুক্তি-ভিত্তিক চাকরি বিলুপ্ত হলেও ৪ থেকে ১২ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ সামগ্রিক প্রভাব ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। কর্মসংস্থানের সংজ্ঞাটাও বদলে যাচ্ছে। ডিগ্রিকেন্দ্রিক নিয়োগের যুগ শেষের পথে। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে রয়েছে দক্ষতাকেন্দ্রিক নিয়োগ। এআই-সচেতনতা ডিজিটাল সাক্ষরতার মতোই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। বিস্ময়কর বিষয় হল ২০২৬ সালে যেসব পেশাগুলোর চাহিদা বাড়ছে তার মধ্যে প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, আচরণগত থেরাপিস্ট ও পশুচিকিৎসকও রয়েছে।
২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করাটাই এখন লক্ষ্য সরকারের। সেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘সার্বভৌম এআই’। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ তাদেরই যারা যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে মানবিক দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে। ভারতের জন্য এআই কোনো হুমকি নয় বরং দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাকে উন্মোচনের একটা শক্তি। তবে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাদের দ্রুত দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যে এআই সরঞ্জাম গ্রহণ এবং স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মধ্যে দিয়ে এই পরিবর্তনের স্রোতে টিকে থাকতে হবে। সবমিলিয়ে এআই নির্ভর ভবিষ্যৎ এখন কেবলমাত্র কল্পনা নয়, এটি ভারতের নতুন বাস্তবতা।