“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী। যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। ডিএ নিয়ে নিজের কর্মচারীদের স্বার্থে তাঁর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত ছিল।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু দাবি করেন, “ডিএ এখন আর বিচারাধীন বিষয় নয়। সুপ্রিম কোর্টে এটি ক্লোজ়ড চ্যাপ্টার। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে।”
শুভেন্দুর কথায়, “সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মেটানোর রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচারব্যবস্থাকে অপমান করেছেন। মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা না দিলে আইনি পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।”
একই সুর শোনা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের গলায়। সল্টলেকের বিজেপির দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী। যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। ডিএ নিয়ে নিজের কর্মচারীদের স্বার্থে তাঁর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া উচিত ছিল।”
এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে মুখ্য়মন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবিও তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ম্যাটার ইজ় সাবজুডিস, আমি কোনও মন্তব্য করব না।” বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, “রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ অবিলম্বে মেটাতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে যে বকেয়া এরিয়ার রয়েছে, যে কোনও মূল্যে তা দ্রুত পরিশোধের কথাও বলা হয়। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার নির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত।
এরপরই ডিএ মেটানোর দাবিতে নবান্নে স্মারকলিপি দিতে যায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। অনুমতি না মেলায় তারা ট্রাফিক গার্ডের কাছেই স্মারকলিপি জমা দেয়। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, “সাবজুডিস কোনটা, সেটা রাজ্য সরকারের বোঝা উচিত। একদিকে সরকার আর্থিক সংকটের কথা বলছে, আরেকদিকে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করে ভাতা বৃদ্ধি করছে। যার সঙ্গে শ্রমের কোনও বিষয় নেই।”