ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : প্রায় দু’দশক পর ঢাকায় ফের ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin) তাঁকে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সাংসদকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন (AMM Nasir Uddin)। এরপর দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত বিএনপি সাংসদদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন তারেক। ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের ঝুলিতে ২১২টি আসন। ফলে সরকার গঠনে কোনও সমস্যা হয়নি।
বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir এই মুহূর্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ‘দমন-পীড়ন, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং রক্তক্ষয়ের’ পর অবশেষে একটি ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের’ মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় ফিরিয়েছে। তিনি বলেন, “সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছি।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাহাবুদ্দিন আহমেদ (Salahuddin Ahmed) জানান, সরকার গঠনের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে । বিকেল ৪টেতেই শপথগ্রহণ হয়।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধ্যায়ে কার্যত ইতি টানল নতুন সরকার। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)-র ক্ষমতাচ্যুতির পর দায়িত্ব নিয়েছিল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার । মঙ্গলবারের শপথের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
বিএনপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে মনোনীত করা হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। পাশাপাশি দু’জন টেকনোক্র্যাট—ড. খলিলুর রহমান ও মহম্মদ আমিন উর রশিদ—মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কাইসার কামাল, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজ-সহ অনেকে। একজন টেকনোক্র্যাট আমিনুল হককেও প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
তবে একাধিক প্রবীণ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বাদ পড়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মইন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁদের অনেকেই অতীতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন।
বিরোধী শিবিরে থাকছে জামায়াতে ইসলামী, যারা ৬৮টি আসন জিতে ‘গঠনমূলক বিরোধী’ হিসেবে ভূমিকা পালনের কথা জানিয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla), মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহঃ মুইজ্জু (Mohamed Muizzu), তুরস্ক ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরাও।
তারেক রহমানের শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের সূচনা হল। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে যখন সরকার চলছিল তখন ব্যাপক নৃশংসতা এবং হিন্দু হত্যালীলার মতো ঘটনা দেখেছে বাংলাদেশ। তার সমালোচনায় সরব হয়েছে গোটা বিশ্ব। এবার এই বিপুল জনসমর্থনকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কীভাবে সুশাসনের বাস্তবে রূপ দেন, সেটাই দেখার।