আত্মঘাতী বিস্ফোরণে হত ১১জন পুলিশকর্মী। বিস্ফোরণের পিছনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: আফগান সীমান্ত ঘেঁষা অশান্ত প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী হামলা। বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে পুলিশ চৌকিতে ঢুকে পড়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণ ঘটাল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (Tehrik-i-Taliban Pakistan)। সোমবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশের বাজাউর জেলায় এই হামলায় অন্তত ১১ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে টিটিপি।
পাক সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি বাজাউরের একটি পুলিশচৌকিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি দ্রুত গতিতে চৌকির ভিতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে প্রবল বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একাধিক পুলিশকর্মী। পরে হাসপাতালে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পুলিশচৌকির পাশের একটি আবাসিক বাড়িও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বাড়ির এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, পাল্টা অভিযানে কয়েকজন জঙ্গিও নিহত হয়েছে। তবে নিহত জঙ্গিদের সঠিক সংখ্যা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের খবর, খুবই সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দিয়ে মূল গেট ভেঙে দেওয়া হয়। তারপর বিস্ফোরণে গোটা চৌকির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু দূর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
উল্লেখ্য, সোমবারই খাইবার পাখতুনখোয়ার অন্য একটি এলাকায় আরও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি মোটরসাইকেলে বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণে অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন। নিরাপত্তা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিছুদিন আগে বাজাউরের একটি কলেজে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হামলা হয়েছিল। সেই হামলার মতো একই কায়দায় হামলা হয়েছে সোমবার। দুটি ঘটনার যথেষ্ট মিল আছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সীমান্তবর্তী এই জেলায় গত কয়েকমাস ধরে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। আফগানিস্তানে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে টিটিপির কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলের আশঙ্কা।
খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হানার কেন্দ্রবিন্দু। আফগান সীমান্ত লাগোয়া দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সীমান্তপথের দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। সাম্প্রতিক এই হামলা ফের প্রশ্ন তুলে দিল, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক রয়ে যাচ্ছে।
হামলার দায় স্বীকার করেছে টিটিপি। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এই আবহে সীমান্তপ্রদেশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গি সন্ত্রাসের ছায়ায় অশান্ত উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান।