AI সামিটে চিনা ‘রোবট কুকুর’ লজ্জায় মাথা হেঁট! 

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ প্রথম দিন থেকেই প্রশ্নের মুখে আয়োজকরা।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শীর্ষ সম্মেলন- না কি ভিড় আর অব্যবস্থার মেলা? দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ প্রথম দিন থেকেই প্রশ্নের মুখে আয়োজকরা। রোবট-কুকুর থেকে শুরু করে প্রদর্শনীতে চুরির অভিযোগ, ওয়াইফাই বিকল, অতিথিদের দীর্ঘক্ষণ গেটে আটকে রাখা- বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। তার উপর নতুন বিতর্ক- প্রদর্শনীতে দেখানো রোবট নাকি চিনের তৈরি!সব মিলিয়ে এই সম্মেলন ঘিরে ঠিক কী ঘটল?

প্রেক্ষাপট

প্রগতি ময়দান ভেঙে তৈরি হওয়া ভারত মণ্ডপমে সোমবার শুরু হয় ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’। সরকারের দাবি- উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে প্রথম এই মাপের এআই সম্মেলন আয়োজন করছে ভারত। আগামী দিনে দেশের এআই প্রকল্পে আদানি, মাইক্রোসফ্ট, ইয়োট্টা-সহ একাধিক সংস্থা বিনিয়োগ করবে ১০ হাজার কোটি ডলার।

ভিড় ও অব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা। শরীরী তল্লাশি, দীর্ঘ লাইন, গেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। শুধু সাধারণ দর্শক নয়- তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, উদ্যোগপতি, এমনকি আন্তর্জাতিক অতিথিরাও আটকে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। অভিযোগ উঠেছে- প্রদর্শনী স্থলে ওয়াইফাই কাজ করছিল না। খাবারের কাউন্টারে অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবস্থাই ছিল না। নগদ লেনদেনেই চলেছে কেনাবেচা। এক উদ্যোক্তার ভাষায়, “এআই সামিটের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছিল কোনও উৎসব, বিক্ষোভ বা বিয়েবাড়ি একসঙ্গে চলছে।”

রোবট-কুকুর বিতর্ক

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি রোবট-কুকুর। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজে সেই রোবটের ভিডিও শেয়ার করেন। কিন্তু পরে জানা যায়,

গ্রেটার নয়ডার Galgotias University
যে রোবট প্রদর্শন করছিল
তা আসলে চিনের তৈরি

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা দাবি করেছিলেন, সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে তারা এই রোবট তৈরি করেছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, প্রদর্শনীতে দেখানো কিছু ড্রোনও চিনের তৈরি। বিতর্ক বাড়তেই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্টল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সাফাই দেয়- ছাত্রছাত্রীদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করাতেই এই প্রদর্শন। মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণন জানান-


“শিল্প মেলায় প্রকৃত কাজকে তুলে ধরা হয়
আমরা চাই এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই হোক
ভুল তথ্য প্রচারকে উৎসাহ দেওয়া হবে না”

শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আরও কয়েকটি সংস্থাও রাতারাতি তাদের স্টল থেকে ‘ডান্সিং রোবট’ সহ নানা পণ্য সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ- প্রদর্শনী থেকে প্রযুক্তি পণ্য চুরি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন- কেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনকে সরকারি প্রদর্শনীতে পরিণত করা হল? কেন বেঙ্গালুরুর মতো আইটি কেন্দ্র বাদ দিয়ে দিল্লিতে আয়োজন?

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ- ভারতের প্রকৃত মেধা ও তথ্যভান্ডারকে তুলে ধরার বদলে এই সম্মেলনকে প্রচারের চমক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বড় প্রশ্ন

প্রযুক্তির সম্মেলনে কি প্রযুক্তিই মূল আলোচ্য হওয়া উচিত ছিল না? যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কথা বলার কথা, সেখানে কি বেশি গুরুত্ব পেল আয়োজনের বাহুল্য? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলনে অবকাঠামো, সংযোগ ব্যবস্থা ও সংগঠনের দক্ষতা- সবকিছুই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত এখন এআই বিপ্লবের বড় দাবিদার। সরকার বলছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত দেশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে গেলে প্রয়োজন নিখুঁত আয়োজন, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উদ্ভাবনের স্বীকৃতি। এআই সামিটের প্রথম কয়েকদিন তাই প্রযুক্তির চেয়ে বেশি আলোচনায় সংগঠনগত ব্যর্থতা। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এআই সামিট কি ভবিষ্যতের প্রযুক্তির মঞ্চ, না কি ব্যবস্থাপনার পরীক্ষায় ধরা পড়া এক আয়োজন? ব্যুরো রিপোর্ট আর প্লাস নিউজ।