বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দৌড়ে এগিয়ে কে ?

বাংলাদেশে বর্তমানে রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তাহলে নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনা কেন ? তাহলে কবে দায়িত্বভার ছেড়ে দিচ্ছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন?

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ পেয়েছে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। শপথের পর তাদের মন্ত্রী-পরিষদ দায়িত্ব শুরু করেছে। তারেক রহমান হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসবের মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন। এ নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনার গুঞ্জন। কিন্তু

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। গণ অভুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল।
ফুটেজঃ (গণঅভ্যুত্থানের ছবি)

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলছিলেন তিনি এই দায়িত্বে অপমান বোধ করছেন। নির্বাচনের পরে তিনি সরে যেতে চান। যদি আসলেই তিনি সরে যান। তাহলে এর প্রক্রিয়াটা কী হবে ? এখানে থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৮-এর এপ্রিলে। ফলে তিনি যতদিন রাষ্ট্রপতি পদে রয়েছেন, সেখানে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ আইনতগত কোনও সুযোগ নেই।
আইনজীবী মহল বলছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে যাওয়ার পরই এই পদের জন্য নির্বাচন হতে পারে।

বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এটি। সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। এবং একজন রাষ্ট্রপতি এই পদে সর্বাধিক দুবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদ তিনটি কারণে শূন্য হতে পারে। একনম্বরে হল রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে । দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির যদি মৃত্যু হয়, বা তিনি যদি পদত্যাগ করেন। তৃতীয়টি হল সংবিধানের ৫২ ও ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যদি কোনও সংবিধান লঙ্ঘন বা রাষ্ট্রদ্রোহের মতো আচরণ করেন। তাহলে এই পদে নতুন রাষ্ট্রপতি আসতে পারেন। ফলে এই গুলোর মধ্যে যদি একটিও না হয়, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতি কোনও মতেই নয়। তাহলে কী দাঁড়ালো? রাষ্ট্রপতির পদ ফাঁকা না হলে, সেই পদের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে না।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পার্থক্য রয়েছে। কীভাবে হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন? একসময়ে বাংলাদেশে সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আইন ছিল। তবে ১৯৯১ সালে পুণরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পর সেটি বাতিল হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। এখানে কারোর বয়স ৩৫ বছরের কম হলে হবে না। এবং সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য যোগ্য না হলে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়তে পারবেন না। তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে মেয়াদ সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে আইন অনুযায়ী ভোটের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে কথা বলে, ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য না হলে, কোনওভাবে নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য নির্বাচন হতে পারে না। এবার দেখা যাক, রয়টার্সের দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, নতুন সরকার আসার পর তিনি কি পদত্যাগ করবেন। নাকি তাঁর আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসবেন। বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে চলেছেন কিনা। তার সবটাই নির্ভর করছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের হাতে।

তবে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। সেই দৌড়ে উঠে আসছে কোন কোন নাম? রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে জোরালোভাবে নাম আসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। অন্যান্য সিনিয়র নেতার মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি তাঁরা।