হরমুজ প্রণালীর টানাপোড়েনের মধ্যেই মুম্বই বন্দরে সৌদি তেলবাহী জাহাজ। তেল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বস্তির নিশ্বাস ভারতের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে তেল নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ দেখছে গোটা বিশ্ব। এরইমধ্যে অবশেষে বুধবার সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে মুম্বাইয়ে এল একটি তেলবাহী জাহাজ। গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর এই প্রথম কোনও তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছল। প্রায় দেড় লক্ষ মেট্রিক টন তেল রয়েছে ওই জাহাজে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরল বলেই মনে করা হচ্ছে।
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ নামের এই তেলবাহী জাহাজটি সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে এসেছে। জাহাজটি মুম্বই বন্দরে নোঙর করার পর তেল পাঠানো হবে মহুলের একটি শোধনাগারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই জাহাজের আগমনের খবরটি বড়ই স্বস্তির বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
জাহাজটি ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ৮ মার্চ ভারতীয় জলসীমার দিকে এগিয়ে আসে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স ও ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর মধ্যেই শেষবার ট্র্যাক করা হয়েছিল।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও পার হতে দেবে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবহণ হয়। বুধবারই ভারতগামী একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজ ‘ময়ুরী নারী’-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর সামনে আসার পরই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই আবহেই বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই আলোচনার পর ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের নৌপরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে অবস্থান করছে, যেখানে রয়েছেন ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিক। বাকি চারটি জাহাজ প্রণালীর পূর্বদিকে রয়েছে, তাতে আছেন ১০১ জন ভারতীয়।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিংয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে ‘দেশ মহিমা’, ‘দেশ অভিমান’, ‘স্বর্ণ কমল’, ‘বিশ্ব প্রেরণা’, ‘জগ বিরাট’, ‘জগ লোকেশ’ এবং ‘এলএনজিসি অসীম’—এই সাতটি জাহাজ আরব সাগরে পৌঁছতে পেরেছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। বৃহস্পতিবার ফিউচার্স বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩৭১ টাকা বেড়ে ৮,৪০৬ টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা বাড়তে পারে।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।